চকরিয়ায় প্রেমিক যুগলকে মারধর, সেই এসআই প্রত্যাহার

কক্সবাজার চকরিয়া থানার প্রত্যাহার হওয়া উপপরিদর্শক (এসআই) আরকানুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
প্রেমিক যুগলকে মারধরের ঘটনায় কক্সবাজারের চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরকানুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ রবিবার বেলা ২টার দিকে এ তথ্য জানিয়েছেন চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিত দাস।
তিনি বলেছেন, ‘ভিকটিমকে (প্রেমিকা) উদ্ধার করার সময় মারধরের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে আরকানুলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত হতে বলা হয়েছে।’ ঘটনা তদন্তে কোনো কমিটি এখনও গঠন করা হয়নি। তবে ভাইরাল ভিডিওটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানালেন অভিজিত।
মারধরের এই ঘটনা শনিবার বিকালে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী উত্তরপাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ছাইরাখালী গ্রামের নুরুল আমিনের সঙ্গে ছিল কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক। সম্প্রতি মেয়েটি বাড়ি ছেড়ে নুরুলের বাড়িতে চলে যান। গত শুক্রবার দুই পরিবারের মধ্যে বৈঠক হয়। ছেলের পরিবার তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও আপত্তি জানায় মেয়ের পরিবার।
পরে অপহরণের অভিযোগ তুলে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন মেয়ের বাবা। শনিবার বিকালে এসআই আরকানুলের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল নুরুল আমিনের বাড়িতে মেয়েটিকে আনতে যায়। সঙ্গে ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরাও।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই তরুণী নিজ পরিবার বা পুলিশের সঙ্গে যেতে রাজি হয়নি। এ নিয়ে নুরুল আমিন ও মেয়েটির পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছেলে ও মেয়ে দুজনকেই লাঠি দিয়ে মারধর করেন এসআই আরকানুল। নুরুল আমিন চেতনা হারালে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয়রা।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী পুলিশের সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করে। পরে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওসি মনির হোসেন বলেছেন, ‘মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ দেন বাবা। এ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করতে গেলে নুরুল আমিন ছুরি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মূলত ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছে পুলিশ। পরে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
তার দাবি, ‘পুলিশের একটি জিপগাড়িতে ইট মেরে গ্লাস ভেঙে দিয়েছে আক্রমণকারীরা। এ ছাড়া থানার এসআই আরকানুল ইসলাম ও আরেক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা সিএনজিটি ভিকটিমের পরিবার ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করেছিল।’







