ফরিদপুরে কালীবাড়ি মন্দিরের চুরি হওয়া কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

চুরির ঘটনায় করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছবি: আগামীর সময়
ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ি মন্দির থেকে চুরি হওয়া কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার ও বিভিন্ন প্রতিমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মূল আসামি আলফাডাঙ্গা থানার বুরাইচ গ্রামের আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮), তার মা সাজেদা বেগম (৬৫), বোয়ালমারীর কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা (২৪) এবং বোয়ালমারী এলাকার আতিয়ার রহমান।
আজ রবিবার দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূজা-অর্চনা শেষে মন্দিরের লোহার দরজা, শাটার, সামনের কাঠের দরজা ও কেচি গেটে তালা লাগিয়ে চলে যান মন্দিরের সেবায়েত। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে মন্দিরে পূজা করতে গিয়ে সেবায়েত দেখতে পান, মন্দিরের সব তালা কাটা এবং দরজা খোলা। ভেতরে গিয়ে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি দেখতে না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। একই সঙ্গে মূর্তির গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার, পিতলের বিভিন্ন প্রতিমা ও রৌপ্যের অলংকারও চুরি হয়।
তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় সেবায়েত কুশল চক্রবর্তীর অভিযোগের ভিত্তিতে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর আলোচিত এই ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশসহ পুলিশের একাধিক দল মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তার ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সাজেদার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলংকার এবং ছয়টি পিতলের প্রতিমা উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া আসাদুজ্জামান ও আল আমিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বোয়ালমারী থানার রুপাপাত এলাকার একটি বাড়ির পেছনে মাটির নিচে পুঁতে রাখা কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ সুপার শাহরিয়ার উল্লেখ করেন, সাদ্দামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বোয়ালমারী বাজারের স্বর্ণপট্টির একটি জুয়েলারি দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ। দোকান মালিক আতিয়ার রহমানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, চুরি হওয়া প্রতিমার কানের দুল, টিকলিসহ অন্যান্য অলংকার গলিয়ে তৈরি করা প্রায় আট আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটির ওজন প্রায় ২০ কেজি এবং আনুমানিক মূল্য এক কোটি টাকা।
মূল আসামি সাদ্দামের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা, ডাকাতি ও মূর্তি চুরিসহ ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। আল আমিনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের আটটির বেশি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




