আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপনাদের কোনো পার্থক্য নেই : পরওয়ার

যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার— সংগৃহীত
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপনাদের কোনো পার্থক্য নেই। কেবল নাম বদলেছে, চরিত্র একই আছে। তিনি বললেন, ‘আজ সর্বত্র দুর্নীতি বাসা বেধেছে, দলীয়করণ করা হয়েছে, খুন বেড়েছে।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে (বিডি হল) '২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি ' শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য যশোর জেলা আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুল। বিএনপি জুলাই সনদ মেনে নেওয়ার যে কথা বলছে, সেটা শুভঙ্করের ফাঁকি- বললেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেছেন, ‘এই ধূম্রজাল, বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসতে গণবিচ্ছিন্ন এ সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি সংবিধান সংস্কার চায় না, তারা চায় সংশোধন। তারা জুলাই সনদের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করেছে। এখন বলছে, সনদের সককিছু একটা একটা করে মেনে নেবে।’ ফাঁকিটা হচ্ছে- তারা জুলাই সনদের ৮ থেকে ১০টি ধারায় নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। সেগুলো বাদ দিয়েই তারা সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়। যেখানে মৌলিক কোনো পরিবর্তনই হবে না। সেই নোট অব ডিসেন্ট হওয়া ধারাগুলো থাকলে দলীয় প্রধানের পদে থাকা যাবে না যদি তিনি প্রধানমন্ত্রী হন, সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে সদস্য পাবে রাজনৈতিক দলগুলো, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, অডিটর জেনারেল, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন প্রভৃতি সংস্থায় দলীয় প্রাধান্য বিলোপ হবে- সেকারণে তারা এটি চায় না।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘যতদিন গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হবে, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যাশা পূরণ না হবে- ততোদিন আমাদের প্রত্যাশার পূরণ হবে না। সে কারণে আমরা পার্লামেন্টে লড়াই করেই যাব। যদি আপনাদের কপাল ভালো থাকে, পার্লামেন্টে আসেন, আলোচনা করেন। আপনারা সংবিধান সংশোধন না করে সংস্কারের দাবি মেনে নেন। আর তা না হলে যে ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে রায় দিয়েছে, তাদের নিয়ে গণভোটের গণরায় আমরা রাজপথেই আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করে নেব।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি জামায়াতের কেন্দ্রীয় সদস্য মো. মোবারক হোসাইন বললেন, ‘চব্বিশে গণঅভ্যুত্থানে ১৪০০ ছাত্র-সাধারণ মানুষ মারা গেছেন। আমরা দেশের পক্ষ থেকে সারা দেশে সেই সংখ্যা গণনা করেছি। প্রত্যেকেরই বাড়ি বাড়ি গিয়েছি। সেই রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আজকের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে তাদের প্রত্যেককে সম্মান জানানো অবশ্যই জরুরি। তারা যেন দেশের প্রথম শ্রেণির নাগরিকের মর্যাদা পান।’
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান , সংসদ সদস্য ও অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, সংসদ সদস্য ও অধ্যাপক মোক্তার আলী, নড়াইল জেলা আমির ও সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু, এনসিপি যশোরের প্রধান সমন্বয়কারী নূরুজ্জামান, আব্দুল কাদের, অধ্যাপক শামসুজ্জামান, আবুল হাশিম রেজা প্রমুখ।





