কেরানীগঞ্জে সাত দিনে ৪ মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে উদ্বেগ

কেরানীগঞ্জ থানা— সংগৃহীত
মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ড, ছুরিকাঘাতে মৃত্যু এবং রহস্যজনকভাবে নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়রা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চললেও ধারাবাহিক এসব ঘটনায় কেরানীগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সর্বশেষ শুক্রবার (৩১ জুলাই) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন ঝিলমিল আবাসিক এলাকা থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের শরীরের উপরের অংশে সাদা-সবুজ রঙের একটি মেক্সি থাকলেও নিচের অংশে কোনো পোশাক ছিল না। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এর এক দিন আগে, ৩০ জুলাই কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হযরতপুর ইউনিয়নের ভাটারাকান্দি এলাকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন অটোরিকশাচালক লিয়াকত আলী (৬০)। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে ২৮ জুলাই কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের গ্রিনসিটি-সংলগ্ন বালুর মাঠ থেকে ১৭ বছর বয়সী তানজিলার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, ৩০ হাজার টাকা লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তার প্রেমিক তাকে হত্যা করেন। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে এবং প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
সপ্তাহের শুরুতে, ২৫ জুলাই কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খোলামোড়া মডেল টাউনের টাইলস মসজিদ-সংলগ্ন এলাকা থেকে আরেক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে ওই নারীর পরিচয় এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ। রহস্যজনক এ ঘটনার তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।
একের পর এক এমন ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কেরানীগঞ্জে নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বেড়েই চলছে। বিশেষ করে নারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার, অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা এবং প্রতিটি ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ঘটনাকেই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। যেসব ঘটনায় হত্যার আলামত পাওয়া গেছে, সেসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
টানা সাত দিনে চারটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কেরানীগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এনেছে।





