উজিরপুর
বাবা হত্যার মূলহোতা ছেলে, ১৬ বছর পর যাবজ্জীবন

সংগৃহীত ছবি
রাতের অন্ধকারে ঘুম থেকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল আলী আকবর হাওলাদারকে। পরদিন ভোরে বাড়ির পাশের ধানখেতে তাকে পাওয়া যায় হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা, চোখ-মুখ গামছায় আটকানো এবং রক্তাক্ত অবস্থায়। স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না।
ঘটনাটি ২০১০ সালের ৩ মে বরিশালের উজিরপুরের। দীর্ঘ ১৬ বছর পর গতকাল বুধবার সেই হত্যা মামলার রায় হলো। নিজের বাবা আলী আকবর হাওলাদারকে হত্যার দায়ে ছেলে পলাশ হাওলাদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরিশালের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায় ঘোষণার সময় পলাশ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই মামলার অপর দুই আসামি কাওসার হাওলাদার ও মিজান হাওলাদারকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত। বিচারক মো. সোহেল আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্র ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পরমানন্দ সাহা গ্রামের আলী আকবর পেশায় দিনমজুর ছিলেন। দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ছেলে পলাশের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। পলাশ তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসতে চাইলে আলী আকবর বাধা দিতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হতো।
এর মধ্যে পলাশের প্রথম স্ত্রী জ্যোৎস্না আক্তার ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় পলাশ কিছুদিন কারাগারেও ছিলেন। মামলাটির পেছনে বাবার ইন্ধন রয়েছে—এমন ধারণা থেকে আলী আকবরের ওপর পলাশ ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
২০১০ সালের ২ মে সন্ধ্যার পর বাবা-ছেলের মধ্যে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা হয়। রাতেই পলাশসহ কয়েকজন আলী আকবরকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ। পরদিন ভোরে প্রতিবেশী তাকে ধানখেতে দেখতে পান।
আলী আকবরকে প্রথমে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরে নিহতের ছেলে শহিদ হাওলাদার থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৫ মার্চ পলাশসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণসহ দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে গতকাল রায় ঘোষণা করা হলো।
১৬ বছর আগের সেই রাতের বিচারিক পর্ব শেষ হলো রায়ে; তবে রায়ের সময় আদালতে ছিলেন না আলী আকবরের সেই ছেলে পলাশ।



