৭ বছর পর মায়ের সঙ্গে মুক্ত আকাশে মোবাশ্বিরা

মায়ের সঙ্গে কারামুক্ত মোবাশ্বিরা
সাত বছর পর মায়ের সঙ্গে মুক্ত আকাশে মোবাশ্বিরা খানম রাথি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মা কামরুন নাহার মনির সঙ্গে মুক্তি পায় রাথি।
নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন কামরুন্নাহার মনি।
২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যুর পর গ্রেপ্তার হন মনি। তখন তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ওই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। মেয়ের নাম রাখা হয় মোবাশ্বিরা খানম রাথি।
জন্মের পর থেকেই মায়ের সঙ্গে কারাগারে বেড়ে ওঠে রাথি। সাত বছর পর মায়ের সঙ্গে তারও কারাজীবনের অবসান হলো।
কারাগার থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মনি বলেন, ‘পুরো বিষয়টি সাজানো। আমরা কেউ এর সঙ্গে জড়িত না।’
তিনি বলেন, ‘জীবন থেকে সাতটা বছর চলে গেছে। আমার সব শেষ হয়ে গেছে।’
মেয়েকে নিয়ে নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে মনি বলেন, ‘অনেক কষ্টে মেয়েকে আগলে রেখেছি। বাকি জীবন তাকে নিয়ে থাকতে চাই।’
প্রসঙ্গত, ২৪ আগস্ট মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে অপর চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়।
এর মধ্যে ৮ জন গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি ও মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আজ মঙ্গলবার কারামুক্ত হন। তারা হলেন মো. শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, আফসার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, আব্দুর রহিম শরীফ ও কামরুন্নাহার মনি।
বাকি দুজন গতকাল ফেনী জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তারা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন এবং সোনাগাজী পৌরসভার তৎকালীন কাউন্সিলর পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ।



