মৌলভীবাজার
‘জঙ্গি সম্পৃক্ততায়’ চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য দুর্গম টিলা থেকে গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি
মৌলভীবাজারের বড়লেখা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য মো. রাহেদ হোসেন মাহেদকে (২৩)। তাকে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার রাহেদ নিষিদ্ধ সংগঠন মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদদাওয়াতুল ইসলামিয়াহ-এর সদস্য। ভারতে পালানোর খবরে অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার হয়। এসব জানালেন থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান।
তিনি বলেছেন, ‘পুলিশের কাছে গোপন খবর ছিল যে রাহেদ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বড়লেখা উপজেলার বোবারথল ষাইটঘরি এলাকার দুর্গম একটি টিলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।’
রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলার আসামি রাহেদ। এ মামলার তদন্ত করছে সিটিটিসি ইউনিট। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিটিটিসির কাছে হস্তান্তর করা হয় তাকে, জানালেন ওসি।
রাহেদের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর এলাকায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন তিনি। পুলিশের রেড এলার্ট জারির পর থেকে ছিলেন আত্মগোপনে। এসব তথ্যও জানালেন ওসি মনিরুজ্জামান।
গত মাসে বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তরের একটি চিঠি নিয়ে সৃষ্টি হয় নানা আলোচনা। উগ্রবাদীরা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে দেওয়া হয় সতর্কতা।
‘জরুরি/গোপনীয়’ উল্লেখ করা ওই চিঠি পাঠানো হয় র্যাবসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে।
তাতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ ওরফে সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুজন সেনাসদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় (জাতীয় সংসদ, বাংলাদেশ পুলিশ/সেনাবাহিনীর সদস্য অথবা স্থাপনাগুলো, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্রগুলো, শাহবাগ চত্বর) বোমা বিস্ফোরণ এমনকি দেশীয় ধারালো অস্ত্র কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা করতে পারে মর্মে জানা যায়।’
এতে আরও বলা হয়, ‘এ লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকতে পারে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য তারা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এমতাবস্থায়, বর্ণিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারকরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এ ছাড়াও নজরদারি বৃদ্ধিসহ বর্ণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।’
পরে সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত দুই মাসে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত অন্তত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
সিটিটিসির দাবি, এদের একজনের সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুজন সেনাসদস্যের যোগাযোগের তথ্য পেয়েছেন তারা।
পুলিশ সদর দপ্তরের ওই চিঠিটি সামনে আসার পরই নতুন সরকারের আমলে প্রথমবারের মতো হঠাৎ জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে নানা আলোচনা ও কিছুটা আতঙ্কও ছড়িয়েছে।
তবে গ্রেপ্তার রাহেদই সিটিটিসির ওই সন্দেহভাজন দুই সাবেক সেনাসদস্যের একজন কিনা, সেটি এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।







