ওষুধ ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ যুবদল-ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

ছাত্রদল নেতা জুয়েল মিয়া ও যুবদল নেতা রঞ্জু মিয়া (বাম থেকে)
কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে মারধর, দোকান ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে রাজিবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সুমন মিয়া।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে রাজিবপুর বাজারের থানা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আজ শুক্রবার সকালে সুমন মিয়া বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দেন।
অভিযুক্তরা হলেন মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল মিয়া (৩৫), উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রঞ্জু মিয়া (৩৫) এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) বজলুর রহমান (৩০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুমন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাজিবপুর বাজারের থানা মোড় এলাকায় ওষুধের ব্যবসা করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি বজলুর রহমানের কাছ থেকে নগদ ও বাকিতে ওষুধ কিনতেন। সম্প্রতি বকেয়া টাকা পরিশোধে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে বজলুর রহমানের নির্দেশে রঞ্জু মিয়া ও জুয়েল মিয়া তার দোকানে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ। বকেয়া টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সুমন মিয়াকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হলে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা সুমনকে উদ্ধার করে রাজিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা দোকানের বিভিন্ন ওষুধ নষ্ট করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করেন। ক্যাশ বাক্সে থাকা ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন দোকানি সুমন মিয়া। এ ছাড়া তাকে প্রাণনাশের এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সুমন মিয়ার ভাষ্য, বজলুরের কাছ থেকে নিয়মিত নগদ ও বাকিতে ওষুধ কিনে নিতেন তিনি। তার কাছে মাত্র ৭৬৩ টাকা বকেয়া ছিল, যা পরিশোধ করতেও চেয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে এসে দোকানির ওপর হামলা চালান। তারা দোকানে ভাঙচুর করে ওষুধপত্র নষ্ট করেন এবং ক্যাশ বাক্স থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যান।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় রাজিবপুর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল মিয়া জানান, চাচাতো ভাই একটা ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি। রাজিবপুর বাজারের ব্যবসায়ী সুমন মিয়ার কাছে তার প্রায় ৭ হাজার টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা চাইতে গেলে চাচাতো ভাইকে মারপিট করা হয়েছে। বিষয়টি জুয়েল আমাকে জানানোর পর বকেয়া টাকা আদায়ের জন্যে আমি এবং রঞ্জু ওই দোকানে গিয়েছিলাম। সেখানে টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুমন মিয়া আমার শার্টের কলার ধরেন। পরে ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে আমরা তাকে কোনো মারধর করিনি। তার দোকানও ভাঙচুর করা হয়নি এবং কোনো ওষুধ নষ্ট করা হয়নি। টাকা লুটের অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রঞ্জু মিয়ার মোবাইল ফোনে কল করে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
রাজিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, ‘এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



