গভীর রাতে শিক্ষকের স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে শনিবার দুপুরে মহেশপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন স্বামী রবগুল হুসাইন
ঝিনাইদহের মহেশপুরে গভীর রাতে এক শিক্ষকের স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে শনিবার দুপুরে মহেশপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন স্বামী রবগুল হুসাইন। এ ঘটনায় আজিজুর রহমান (৩০) নামে একজনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৪ জনের বিরুদ্ধে মহেশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক রবগুল হোসাইন (৩৬)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রবগুল হোসাইন মহেশপুর উপজেলার সুন্দরপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং সামন্তা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক। গত ৪ জুন কোটচাঁদপুর উপজেলার জালালপুর লক্ষ্মরপাড়া এলাকার তহিরা খাতুন (২৬)-কে ইসলামি শরিয়াহ্ মোতাবেক বিয়ে করেন তিনি।
অভিযোগে রবগুল হোসাইন উল্লেখ করেন, বিয়ের পর থেকে কোটচাঁদপুরের ইকরা গ্রামের আজিজুর রহমান বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে তাকে ও তার স্ত্রীকে ফোন করে তহিরা খাতুনকে নিজের স্ত্রী দাবি করে আসছিলেন। এ সময় কাবিননামা দেখাতে বললেও তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। উল্টো তাকে ও তার স্ত্রীকে গালিগালাজ এবং হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষক।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ব্যবহার করেও তাকে ও তার স্ত্রীকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত ২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টা ৫ মিনিটের দিকে আজিজুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা ১৩ থেকে ১৪ জন ব্যক্তি দুটি মাইক্রোবাস নিয়ে রবগুল হোসাইনের বাড়িতে যায়।
অভিযোগকারীর দাবি, ওই ব্যক্তিরা তার মা-বাবাকে অস্ত্রের মুখে রেখে তাকে ডাকতে বলে। পরে দরজা খুলে বারান্দায় আসার পর তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার নামে ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে জানায়। এ সময় তার স্ত্রী ঘর থেকে বের হলে তিনি অভিযুক্ত আজিজুর রহমানকে চিনতে পারেন।
রবগুল ও তার পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার স্ত্রী তহিরা খাতুনকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে চলে যায়।
পরে স্থানীয় বাবুল হোসেন ও কাওছার আলী ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি জানতে পারেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তহিরা খাতুনের সন্ধান না পেয়ে মহেশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানায় ওসি আজাদ রহমান জানিয়েছেন অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রেজাউল বলেছেন, বিষয়টি তদন্তের কাজ চলছে। বিস্তারিত পরে জানাব।




