সার নিয়ে উত্তেজনা, কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে ডিলারকে ধাওয়া

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষকদের সড়ক অবরোধ
সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার পেলেন না কৃষকরা। ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন তারা। শুধু মহাসড়ক অবরোধ নয়, এক সার ডিলারকে ধাওয়া দিয়েছেন এবং এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।
ভূরুঙ্গামারী, রৌমারী, রাজিবপুর ও নাগেশ্বরীর পর এবার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ও ঘোগাদহ ইউনিয়নে ঘটেছে এমন ঘটনা। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) এসব ঘটনা ঘটে।
ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাঠের পাড়ে মেসার্স এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণে বিলম্ব হওয়ায় কৃষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অন্যদিকে ঘোগাদহ ইউনিয়নে সার না পাওয়ায় কৃষকরা সার ডিলার সাইফুর রহমানকে ধাওয়া দেন। আর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ কৃষকদের লাইনে দাঁড়িয়ে সার নিতে বললে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে কৃষকরা তার ওপর চড়াও হন এবং তাকে অবরুদ্ধ করেন।
কৃষকদের অভিযোগ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ইন্ধনে ডিলাররা রাতের আঁধারে কালোবাজারিদের কাছে সার বিক্রি করছেন। ফলে খুচরা দোকান থেকে প্রতি কেজি সার ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুন অর রশিদের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন বললেন, ‘সার বিতরণের সময় নিয়োজিত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের লাইন ধরতে বললে কৃষকরা বিতর্কে জড়িয়ে হট্টগোল শুরু করেন। পরে পুলিশের একটি টিম গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।’
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নাহিদা আফরীন জানান, ডিলার পয়েন্টে অতিরিক্ত ১০০ বস্তা সার দেওয়া হয়েছে। ওই সমস্ত পয়েন্টে বরাদ্দের চেয়ে অধিক কৃষক ভিড় জমিয়ে হট্টগোল করার চেষ্টা করে। পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বললেন, ‘জেলায় সারের কোনো সংকট নাই। বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব। জেলায় চলতি মৌসুমে বেগুন ও ভুট্টা চাষ বেশি হওয়ায় কৃষকদের কথা বিবেচনা করে সরকার ইতোমধ্যে অতিরিক্ত ১ হাজার টন সার বরাদ্দ দিয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রম চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু দুষ্টু ডিলার সার দিতে বিলম্ব করছেন, এতে কৃষকরা হয়রানি হচ্ছেন। কৃষকদের সার নিয়ে কোনো কারসাজি করার সুযোগ নেই। যারা সার নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।’
এর আগে নাগেশ্বরীতে ডিলারের কাছে সার না পেয়ে কৃষকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন, আটকে রেখেছিলেন কৃষি কর্মকর্তাকে। তারও আগে রাজিবপুর উপজেলার একটি গুদাম থেকে সার লুটের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় কৃষকদের বিরুদ্ধে। ক্ষুব্ধ কৃষকদের ডিলার লাঠিপেটা করতে গেলে বাধে হট্টগোল। পুলিশ গিয়ে পরে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
গত ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার না পেয়ে গোডাউন লুট করেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। তদন্তে বেরিয়ে আসে ডিলারের গাফিলতির তথ্য। এর ১৫ দিনের ব্যবধানে রৌমারীর গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যান আরেক দল কৃষক।



