জনবল সংকটে কমলগঞ্জের শিক্ষা অফিস, এক কর্তার কাঁধে দুই উপজেলা

ছবি: আগামীর সময়
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে অনুমোদিত সাতটি পদের মধ্যে পাঁচটিই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ছয় থেকে সাত বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে লোক না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। এর মধ্যে অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজারের পদটি কাগজে পূর্ণ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পাঁচ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। ফলে উপজেলার ২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চারটি কলেজ, সাতটি মাদ্রাসা ও ১২টি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা প্রশাসনেও এর প্রভাব পড়ছে।
বর্তমানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন নাহার পারভীন একাই দপ্তরের অধিকাংশ কাজ সামলাচ্ছেন। এর সঙ্গে তাকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। দুই উপজেলার দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে নিয়মিত কাজ চালিয়ে নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।
দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষক, অফিস সহকারী কাম ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, অফিস সহায়কসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। জনবল না থাকায় উপবৃত্তি, এমপিও-সংক্রান্ত নথিপত্র, ব্যবস্থাপনা কমিটির কাজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত অ্যাকাডেমিক তদারকি ব্যাহত হচ্ছে।
জনবল সংকটের মধ্যে অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (এলপিআর) যাওয়া অফিস সহকারী দিলীপ কুমার সিংহকেও সম্প্রতি আবার কাজে ডেকে আনা হয়েছে। জরুরি দাপ্তরিক কাজ চালাতে তাকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মৌসুমী পাল পাঁচ বছর ধরে প্রেষণে দিনাজপুর কার্যালয়ে কর্মরত। ফলে কমলগঞ্জের অনুমোদিত পদটি কাগজে পূর্ণ থাকলেও বাস্তবে ওই পদ থেকে কোনো সেবা পাচ্ছে না স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
কালিপ্রসাদ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্র কুমার দেব বললেন, ‘জরুরি কাজের জন্য শিক্ষা অফিসে গেলে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জনবল না থাকায় সময়মতো উপবৃত্তি ও ব্যবস্থাপনা কমিটির বিভিন্ন কাজ শেষ করা যাচ্ছে না।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন নাহার পারভীন বললেন, ‘পুরো অফিসে আমি একাই কাজ করছি। এর ওপর শ্রীমঙ্গলের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে খুব কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত শূন্যপদগুলো পূরণ করা জরুরি।’
মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলুর রহমান বললেন, ‘শুধু কমলগঞ্জে নয়, সব উপজেলাতেই জনবল সংকট রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা ঢাকায় প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। মাউশি বা মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে জনবল সংকটের সমাধান হবে।’ কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদার বললেন, ‘শিক্ষা অফিসের সংকটের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’



