র্যাগিং, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ শিক্ষার্থীর শাস্তি

সংগৃহীত ছবি
নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অপরাধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে এক বছর একাডেমিক বহিষ্কার অথবা অর্থদণ্ড দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির স্বাক্ষরিত আলাদা আলাদা চিঠিতে শাস্তির বিষয়টি জানানো হয়।
গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অপরাধের মাত্রানুযায়ী এই শাস্তি আরোপ করা হয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।
আইন বিভাগের ৫ জন, মার্কেটিং বিভাগের ১৯ জন, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১০ জনসহ চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ৪৮ শিক্ষার্থীকে তিন ক্যাটাগরিতে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কাউকে ১ বছরের বহিষ্কার বা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, কাউকে ৬ মাসের বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা। বাকিদের শুধুমাত্র ১০ হাজার টাকা জরিমানার শাস্তি দেয়া হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন
আইন বিভাগ: ১৫ জুলাই আইন বিভাগে র্যাগিংয়ের ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। জয়শ্রী রাণী বিশ্বাসকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রুবাইয়া সুলতানা রাবা, রিদোয়ান চৌধুরী, মানজারুল হক ও রেসবুল হাসান আবিরকে এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ: ২২ জুলাই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১০ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কাজী নাবির, সুমাইয়া আক্তার রিয়া, ইয়ামিন হোসেন, ফারিয়া বিনতে হোসেন ইলমা, ওয়েদুজ্জামান রিফাত, মো. আরিফুল ইসলাম, সাদিয়া ইসলাম ও নাইম ইসলামকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মাহি আনোয়ারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার এবং রাকিবুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার করা হয়েছে।
মার্কেটিং বিভাগ: ১৯ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগে র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৯ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। সুরাইয়া আক্তার, সৌরভ মালী, মেহেদী হাসান অমি, আজিজুল ইসলাম চয়ন, ঐশী মহন্ত, এসএম সাইফুজ্জামান, খালেদ হোসেন, জান্নাতুল বুশরা জুনি, আলিফ হোসেন নয়ন, নূর নবী, কিশোর কুমার দত্ত, রিফাত হাওলাদার ও হাসিব শেখকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সবুজ মিয়াকে এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া সাদিয়া বেগম, স্নেহা আক্তার, ফারিয়া শিমুল কলি, দিদারুল ইসলাম ও তাশফিক কবির রাফিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
সিএসই বিভাগ: ৯ আগস্ট সিএসই বিভাগে র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মুজাহিদ হাওলাদার, অনিন্দা সাহা অর্ঘ্য, চন্দন মিস্ত্রি, কাউসার হোসেন সৌরভ, সুস্ময় তরুয়া, সাফায়েত ইসলাম শিহাব, অয়ন দাস দ্বীপ ও সিদ্ধার্থ সরকারকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মাসুম বিল্লাহ ও মুবিনুল ইসলাম নোবেলকে এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। রবিউল ইসলাম, মইনুল ইসলাম সাকিব, রেজুয়ান আজাদ ওয়াসি ও মাহফুজুর রহমানকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, জরিমানা পরিশোধের সময়সীমা পত্র ইস্যুর তারিখ থেকে ১ মাস। এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে দ্বিগুণহারে জরিমানা প্রযোজ্য হবে বলে পত্রতে উল্লেখ করা হয়।
কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বুধবার বলছিলেন,, তিনটি ক্যাটাগরিতে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে—বহিষ্কার অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা। শিক্ষার্থীরা যেন ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ পায়, সেজন্য প্রথমবার জরিমানের বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের ক্ষেত্রে সরাসরি বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলছিলেন, মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে র্যাগিং এর বিষয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। র্যাগিংয়ের বিষয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি ফলো করছে। প্রাথমিকভাবে চারটি ডিপার্টমেন্টে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে, ওই চারটি ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্টদেরকে আমরা শাস্তির আওতাভুক্ত করেছি। আর অন্য একটি ডিপার্টমেন্ট তদন্ত রিপোর্টে স্টুডেন্টের নাম উল্লেখ না করায় আমরা তাদের পুনরায় তদন্ত করার জন্য বলেছি এবং পুনরায় তদন্ত রিপোর্ট নামসহ জমা দিলে আমরা তাদের আইনের আওতায় আনব।





