রাজশাহী
প্রশিক্ষণে বদলে যাচ্ছে কৃষি উদ্যোক্তাদের ভাগ্য

কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে বিপণন, প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে ব্র্যান্ডিং- সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় রাজশাহী অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তারা এগিয়ে যাচ্ছেন নতুন সম্ভাবনার পথে। কেউ আলু থেকে তৈরি করছেন বহুমুখী মূল্যসংযোজিত পণ্য, আবার কেউ নিরাপদ খাদ্যপণ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখছেন। এমন সাফল্য, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের নানা দিক উঠে এসেছে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক বিপণন কর্মশালায়।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার বায়া এলাকায় অবস্থিত ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক বিপণন কর্মশালায় এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের উপ-পরিচালকের কার্যালয়, ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ'র আওতায় এপিসিইউ-ডিএএম প্রকল্পের সহযোগিতায় কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এম এম আরিফ পাশা। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক শাহানা আখতার জাহান। স্বাগত বক্তব্য দেন রাজশাহীর সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পার্টনার প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মো. বায়েজীদ বোস্তামী। তিনি রাজশাহী বিভাগে প্রকল্পের আওতায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, বাজার সম্প্রসারণ ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক এম এম আরিফ পাশার ভাষ্য, শুধু কৃষিপণ্য উৎপাদন করলেই হবে না, সেগুলোর সঠিক বাজারজাতকরণও নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক ও উদ্যোক্তাদের বাজারের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে প্রশিক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের পাশে থেকে কাজ করে যাবে, যোগ করেন তিনি।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা জানান, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পাওয়ার ফলে তাদের ব্যবসায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে উৎপাদন ও বিক্রির ধারণা সীমিত ছিল, এখন তারা বাজার বিশ্লেষণ, পণ্যের মান উন্নয়ন, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং ভোক্তার চাহিদা সম্পর্কে অধিক সচেতন হয়েছেন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পার্টনার প্রকল্পের এজেন্সি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফারুক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ড. চিত্রলেখা নাজনীন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।



