বাগেরহাটে জোয়ার এলেই পানিবন্দি আশ্রয়ণ প্রকল্প
- দুর্ভোগে ১৪০ পরিবারের ৪৫০ জন

সংগৃহীত ছবি
জোয়ারের পানি বাড়লেই পানিবন্দি হয়ে পড়ে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের মাজিডাঙ্গা আশ্রয়ণ প্রকল্প। বসতঘর, রান্নাঘর, মসজিদ ও চলাচলের সড়কে পানি ঢুকে পড়ায় বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রকল্পের ১৪০টি পরিবারের প্রায় ৪৫০ বাসিন্দা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জোয়ারের সময় তলিয়ে যায় প্রকল্পের রাস্তাঘাট ও উঠান। কোথাও কোথাও ঘরের মেঝেতেও জমে হাঁটুপানি। পানি ও কাদায় একাকার হয়ে যায় পুরো এলাকা। এতে রান্নাবান্না, শিশুদের পড়াশোনা, স্কুলে যাতায়াতসহ ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
এদিকে জোয়ারের পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় অনেক সময় রান্নাও করতে পারেন না বাসিন্দারা। তখন চিড়া, মুড়ি ও শুকনা খাবার খেয়ে থাকতে হয়। স্কুলগামী শিশুদের হাঁটুপানি ও কাদার মধ্য দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায়।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রহিমা বেগম বললেন, ‘জোয়ার এলেই ঘরের মধ্যে পানি ঢোকে। রান্না করতে পারি না। বাচ্চাদের নিয়েও খুব কষ্টে থাকতে হয়। আমরা ত্রাণ চাই না, জোয়ারের পানি যেন আর ঘরে না ঢোকে, সেই ব্যবস্থা চাই।’ আরেক বাসিন্দা রতন শেখ বলেছেন, ‘বছরের পর বছর এভাবে পানির মধ্যে বসবাস করছি। রাস্তা না থাকায় বয়স্ক মানুষ ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ে। প্রকল্পের চারপাশে বেড়িবাঁধ ও পাকা রাস্তা হলে আমাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।’
সালমা বেগম বললেন, ‘পানি বাড়লে ঘরের মেঝেতে হাঁটুপানি হয়। তখন রান্না বন্ধ হয়ে যায়। বারবার শুকনা খাবার দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না। আমাদের স্থায়ীভাবে বাঁচার মতো ব্যবস্থা করা হোক।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে মাজিডাঙ্গায় ঘর ও জমি দেওয়া হয় ৬০টি ভূমিহীন পরিবারকে। পরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশের চরভরাটি এলাকায় পুনর্বাসন করা হয় আরও ৮০টি পরিবারকে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিবার ছাড়াও বর্তমানে ওই এলাকায় বসবাস করছে প্রায় ৩০০ পরিবার।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বীথি জানিয়েছেন, মাজিডাঙ্গা আশ্রয়ণ প্রকল্পের জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং বাসিন্দাদের শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে। স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা দূর করার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এখনই কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






