নাফ নদীতে গোসলে নেমে নিভে গেল দুই প্রাণ

নিহত মোহাম্মদ নিশান ও মোহাম্মদ নিশান (১৩) ও মোহাম্মদ আরজিন
নাফ নদীর পানিতে তখনো খোঁজ চলছিল। স্বজনদের চোখ নদীর দিকে, স্থানীয় জেলেদের নৌকা ছুটছিল এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়। কোস্ট গার্ড সদস্যরাও চালাচ্ছিলেন তল্লাশি। প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর নদী থেকে উদ্ধার করা হলো মোহাম্মদ নিশান (১৩) ও মোহাম্মদ আরজিনকে (১৪)। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। হাসপাতালে নিয়ে জানা গেল, অনেক আগেই নিভে গেল দুই কিশোরের প্রাণ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ জেটিঘাটসংলগ্ন নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছিল তারা।
নিহত নিশান শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। আরজিন একই এলাকার কেফায়েত উল্লাহর ছেলে। তারা দুজনই সাবরাং ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার সকালে কয়েকজন শিশু জেটিঘাটসংলগ্ন নাফ নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে স্রোতের টানে নিশান ও আরজিন নদীর গভীর পানিতে চলে যায়। এরপর তাদের আর দেখা যায়নি। মুহূর্তেই আনন্দের গোসল পরিণত হয় উৎকণ্ঠা আর কান্নায়।
খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জেলেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। শুরু হয় নদীতে তল্লাশি। পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় নাফ নদীর বিভিন্ন অংশে চলে একটানা তল্লাশি। প্রায় চার ঘণ্টা পর বিকাল ৩টার দিকে নদী থেকে দুই কিশোরকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
জেটিঘাট এলাকায় বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করছিলেন আবদুল মজু। তার ভাষ্য, দুই কিশোর দীর্ঘ সময় পানিতে তলিয়ে ছিল। দ্রুত উদ্ধার করা গেলে হয়তো তাদের বাঁচানো সম্ভব হতো।
শাহপরীরদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম বলেছেন, দুই কিশোরকে উদ্ধার করা গেলেও বাঁচানো যায়নি। ভবিষ্যতে শিশুরা যাতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে নাফ নদীতে গোসল করতে না নামে, সে বিষয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হতে হবে।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নুশরাত জাহান জানালেন, বিকালে দুই কিশোরকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেছেন, নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হবে।




