পরীক্ষা চলাকালীন বিদ্যালয়ে মাতলামি করলেন প্রধান শিক্ষক, ভিডিও ভাইরাল

প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন—ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া
বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিল শিক্ষার্থীরা। এমন সময় মদ্যপ অবস্থায় চিৎকার করতে করতে নিজের অফিসে প্রবেশ করেন প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নুকালি উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটে এ ঘটনা। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে টলতে টলতে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন প্রধান শিক্ষক। এরপর চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিশৃঙ্খল আচরণ শুরু করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা খবর দেন রুহুল আমিনের পরিবারকে। পরে পরিবারের লোকজন এসে বাড়িতে নিয়ে যায় তাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রুহুল আমিন। তার বাড়ি বিদ্যালয়ের পাশেই হওয়ায় পারিবারিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছেন তিনি। এর আগেও বিদ্যালয়ে নিজ কার্যালয়ে বসেই মদ্যপান ও অস্বাভাবিক আচরণ করেছেন।
ওই বিদ্যালয়ের আইসিটি সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলছিলেন, একটি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজের চেয়ারে বসে মদ্যপান করেছেন এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
মাতলামির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, আমি বাইরে থেকে মদ্যপান করে বিদ্যালয়ে একটি কাগজ নেওয়ার জন্য গিয়েছিলাম। তখন কিছুটা মাতলামি হয়েছে। পরে আমার বড় ভাই আমিনুল ইসলাম ও ছোট ভাই নুরুল ইসলাম আমাকে বাড়িতে নিয়ে যান। এ ঘটনায় আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দেব।
শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইদুল ইসলাম শেখ জানান, বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে তার বিরুদ্ধে।





