জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ বাঁশের সেতুতে ভৈরব নদী পারাপার

ছবি: আগামীর সময়
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদা ও নতিপোতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুলালনগর-নতিপোতা এলাকায় ভৈরব নদীর ওপর নির্মিত একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সেতুর ওপর নির্ভর করে চলাচল করছেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ।
দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত সেতুটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় চলতি বর্ষা মৌসুমে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুলালনগর, নতিপোতা, কালিয়াবকরি, প্রতাপপুর, গোপালপুর ও ভগীরথপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য ভৈরব নদী পারাপারের অন্যতম ভরসা এই বাঁশের সেতু। স্থানীয় বাসিন্দারা জগন্নাথপুর বাজার, ব্যাংক, মহাজনপুর কলেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের জন্য প্রতিনিয়ত এটি ব্যবহার করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটি দিয়ে কোনো রকমে মোটরসাইকেল ও সাইকেল পারাপার করা গেলেও পণ্যবাহী বা অন্যান্য যানবাহন চলাচল সম্ভব নয়। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন কিংবা অসুস্থ রোগী নিয়ে গন্তব্যে যেতে তাদের হেমায়েতপুর-চারুলিয়া হয়ে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। যার কারণে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে।
দুলালনগর গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী ওরফে টিটন বলছিলেন, ‘বহু বছর ধরে আমরা এই বাঁশের সেতুর ওপর নির্ভর করে চলছি। একটি স্থায়ী সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। চুয়াডাঙ্গা, দামুড়হুদা কিংবা মেহেরপুরে যেতে হলে এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।’
একই গ্রামের পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফারুকুজ্জামান বকুল বললেন, মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলতে কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যেতে অতিরিক্ত পথ ঘুরতে গিয়ে কৃষকদের ভোগান্তি ও খরচ দুটোই বাড়ছে। আমরা দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম জানালেন, বিভিন্ন সময়ে সরকারি কর্মকর্তারা এসে স্থান পরিদর্শন ও পরিমাপ করে গেলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
সেতুটির নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় ইজারাদার নাজমুল হোসেন উল্লেখ করেন, প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতি বছর সংস্কারেও ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ নিয়মিত টোল না দেওয়ায় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্ষার স্রোতে যেকোনো সময় সেতুটি ভেসে যেতে পারে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান বললেন, ‘সেতুটির বর্তমান অবস্থা আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে করা হয়েছে অবহিত। সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে।’ তবে ততদিন পর্যন্ত সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে সেতুটি ব্যবহার করার অনুরোধ জানাচ্ছি যোগ করেন তিনি।




