মায়ের লাশ ঝোপে, ৫ দিন পর শিশুর মরদেহ মিলল আড়িয়াল খাঁ নদে

আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধারে স্থানীয়রা। ছবি: আগামীর সময়
মাদারীপুরের শিবচরে ঝোপ থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধারের পাঁচ দিন পর আড়িয়াল খাঁ নদে ভেসে উঠল তার শিশুসন্তানের দেহ। আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের চর কামারকান্দি এলাকায় ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
শিবচর থানার ওসি কামাল হোসেন এসব জানিয়েছেন। নিহত এক বছর বয়সী আবির শিবচরের শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ও শম্পা খাতুন দম্পতির ছেলে। গত ১৯ আগস্ট মাদবরচর ইউনিয়নের উত্তর বাখেরকান্দি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ঝোপ থেকে শম্পার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অন্যদিকে এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে মাদারীপুর কারাগারে বন্দি শাহাবুদ্দিন।
তাকে হত্যায় সন্দেহভাজন হিসেবে দুদিন পর গ্রেপ্তার করা হয় ফারুক মিয়াকে (৪৫)। পুলিশ জানায়, তিনি শম্পাকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার শিশুপুত্রকে আড়িয়াল খাঁ নদে ছুড়ে ফেলার কথাও জানিয়েছেন।
অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যে শিশুটিকে উদ্ধারে আড়িয়াল খাঁ নদে টানা তল্লাশি চালায় পুলিশ, র্যাব ও স্থানীয়রা। অবশেষে সোমবার সকালে ভেসে ওঠে শিশুটির দেহ।
শম্পার লাশ উদ্ধার ও শনাক্তের পরই তার বাবা ছামরুল ইসলাম শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন।
থানা পুলিশ বলছে, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে শম্পার স্বর্ণের নাকফুল, রুপার চেইন, এক জোড়া জুতা এবং পোড়ানো অবস্থায় চুলার ওপর পড়ে থাকা ওড়না জব্দ করা হয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট শিশুপুত্রকে নিয়ে ফারুকের বাসায় অবস্থান করছিলেন শম্পা। সেখানে তাকে হত্যা করার পর মরদেহ ফেলে বাড়ির কাছেই ঝোপে ফেলে দেন আসামি। আর শিশুটিকে ফেলে দেন আড়িয়াল খাঁ নদে। শিবচর সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন জানান এসব তথ্য।
তিনি আরও জানান, ফারুক মিয়া আগে চোরাই গাড়ির ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। গত ১৭ মে চোরাই গাড়িসহ গ্রেপ্তার হয়ে ছিলেন মাদারীপুর কারাগারে। সেখানে শম্পার স্বামী শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তার পরিচয়।
পরে জামিনে বের হয়ে একটি গ্যারেজ ভেঙে সেখানে ভাতের হোটেল চালু করেন ফারুক। শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে তার সখ্য হয় শম্পার সঙ্গে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।








