ঝোঁপে উদ্ধার তরুণীর লাশের পরিচয় শনাক্ত, তার শিশুসন্তানের খোঁজে পুলিশ

শিবচরে তরুণীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামি ফারুক মিয়া। ছবি: আগামীর সময়
মাদারীপুরের শিবচরে গত বুধবার ঝোঁপ থেকে উদ্ধার হয় এক তরুণীর মরদেহ। নিহত তরুণী শম্পা খাতুন (২৮) বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। পরে গ্রেপ্তার করা হয় ফারুক মিয়া (৪৫) নামে এক যুবককে। জিজ্ঞাসাবাদে শম্পার শিশুপুত্রকে হত্যার তথ্যও এসেছে পুলিশের হাতে। ফারুক পুলিশকে জানিয়েছেন, এক বছরের শিশুটিকে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলেছেন তিনি।
শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের আজ শুক্রবার এসব জানিয়েছেন। শিশুটির খোঁজে অভিযান চলছে বলেও জানালেন তিনি। পুলিশ বলছে, শম্পার স্বামীর সঙ্গে কারাগারে পরিচয় হয় ফারুকের। সেই সূত্রে শম্পার সঙ্গে তার সখ্য হয়।
নিহত শম্পা নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। বছর তিনেক আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের এক বছর বয়সী ছেলে আবির এখনও নিখোঁজ। অন্যদিকে, শাহাবুদ্দিন এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আছেন মাদারীপুর কারাগারে।
গত ১৯ আগস্ট সকালে শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকার পরিত্যক্ত ঝোপ থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে প্রযুক্তিগত তথ্য ও স্বজনদের মাধ্যমে মরদেহটি শম্পার বলে নিশ্চিত করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা ছামরুল ইসলাম।
এরপর শিবচর সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ ও র্যাব-৮-এর সদস্যরা হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে। রাতেই গ্রেপ্তার হন খুলনার তেরখাদা উপজেলার ফারুক মিয়া।
পুলিশ বলছে, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে শম্পার স্বর্ণের নাকফুল, রুপার চেইন, এক জোড়া জুতা এবং পোড়ানো অবস্থায় চুলার উপর পড়ে থাকা ওড়না জব্দ করা হয়েছে।
শিবচর সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন বললেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে- শম্পা ও তার শিশুসন্তান ঘটনার আগে আসামির বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
‘তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে কি না- সেটি তদন্তাধীন। মরদেহ ভারী হওয়ায় আসামি বাড়ির কাছেই ঝোঁপে ফেলে দেয়। আর শিশুটিকে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন’- এসব বললেন সালাহ উদ্দিন।
তিনি জানালেন, ফারুক মিয়া আগে চোরাই গাড়ির ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। গত ১৭ মে চোরাই গাড়িসহ গ্রেপ্তার হয়ে ছিলেন মাদারীপুর কারাগারে। সেখানে শম্পার স্বামী শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তার পরিচয়।
পরে জামিনে বের হয়ে একটি গ্যারেজ ভেঙে সেখানে ভাতের হোটেল চালু করেন ফারুক। শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে তার সখ্য হয় শম্পার সঙ্গে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিত করেনি পলিশ।








