রংপুরে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে, অধিকাংশই শিশু-কিশোর

ফাইল ছবি
কোরবানির ঈদের আগে ও পরে গত ১৫ দিনে রংপুরে পুকুর ও নদীতে ডুবে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৮ শিশু ও ৫জন কিশোর রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পানিতে ডুবে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশুর মৃত্যু হয়েছে পীরগাছা উপজেলায়। এই উপজেলায় ৩ দিনের ব্যবধানে মৃত্যু হয়েছে ৬ শিশুর।
এছাড়া তারাগঞ্জে ও পীরগঞ্জে ২ জন করে কিশোর ও গঙ্গচড়ায় ২ শিশু মারা গেছে। অন্যদিকে, রংপুর নগরীতে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারা গেছেন।
গতকাল শনিবার পীরগাছা উপজেলার চওড়া মাছুয়াপাড়ায় পাঁচ বছরের এক শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। এর আগে শুক্রবার উপজেলার নজর মাহমুদ এলাকার সজিব মিয়ার ছেলে রাজীব মিয়া (৬) ও শাহজাহান মিয়ার মেয়ে সেনাতুল আক্তার (৪) পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়। এই দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো ভাইবোন। গত ৩ জুন একই কারণে উপজেলার দিঘটারী এলাকার সোহাগ (৪) ও দাদন দোলাপাড়া এলাকার আবিদ হাসানের (৭) মৃত্যু হয়। সম্পর্কে তারা মামাতো-ফুপাতো ভাই। একই দিনে ওয়াজেদ আলী নামে ১৪ মাসের শিশু বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশের বাঁশঝাড়ের নিচের জলাবদ্ধ জমিতে পড়ে মারা যায়।
গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের মাজারেরপাড় এলাকায় গত ২৭ মে পানিতে ডুবে রুশা মনি (১৫) ও তার ভাই সাইফের (৫) মৃত্যু হয়েছে। তারাগঞ্জে বন্ধুদের সঙ্গে যমুনেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নেমে অহিদ ইসলাম (১৫) ও মাসুদ রানা (১৬) নামে দুই কিশোর মারা গেছে। গত ২৯ মে উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নে কায়িশাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাদের বাড়ি হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের ডাঙ্গীরহাট তেলিপাড়া গ্রামে।
গত শুক্রবার (৫ জুন) রংপুর নগরীর পানবাড়ি এলাকায় ঘাঘট নল্ড বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিহাবের (২৬) মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি নগরীর দর্শনা সূত্রাপুর এলাকায়। গত ২১ মে পীরগঞ্জে পুকুরে গোসল করতে নেমে মারা গেছে দুই কিশোর। তারা হলো উপজেলার চতরা ইউনিয়নের কাঠালপাড়া গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে তামিম (১৩) ও সুরুজ মিয়ার ছেলে সাদমান (১৪)। সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাই ও দুজনই কাঞ্চনবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রতি বছর দেশে শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো নদীনালা, ডোবা ও পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যাওয়া। তাদের পরামর্শ, শিশুদের একা ছেড়ে না দেওয়া, খেলার সময় সঠিক তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়াসহ সচেতন হলে এ ধরনের মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।






