এক বিদ্যালয় এক শিক্ষক

প্রতীকী ছবি
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের আব্দুল খালিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। শুধু তা-ই নয়, কয়েক বছর থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ফলে পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে প্রতিনিয়ত। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন দুর্ভোগে পড়েছে, তেমনি প্রতি বছর বিদ্যালয় থেকে কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে আসছে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শিশুরা। শুরুতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল দেড় শতাধিক। অনুমোদিত শিক্ষকের সংখ্যা পাঁচজন। তবে এখন পর্যন্ত পূর্ণসংখ্যক শিক্ষক ছিলেন না এখানে। ২০১৮ সালে প্রধান শিক্ষক অন্য জায়গায় চলে গেলে আর কোনো শিক্ষক এখানে স্থায়ী হতে পারেননি। অন্য বিদ্যালয় থেকে কিছুদিনের জন্য একজন শিক্ষক দেওয়া হয় এখানে। ২০২২ সাল পর্যন্ত এভাবেই চলছিল পাঠদান। কিন্তু চার মাস পর প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে একজন শিক্ষক প্রবাসে চলে গেলে সমস্যায় পড়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। তখন থেকেই নুসরাত আফরিন নামে একজন সহকারী শিক্ষক পুরো বিদ্যালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ জন। চার বছর ধরে বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিকসহ ছয়টি শ্রেণির ২২ শিক্ষার্থীর পাঠদানের দায়িত্ব পালন করছেন নুসরাত আফরিন।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া জাহান আকছা জানায়, ‘আমি বৃত্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদানে খুব সমস্যা হচ্ছে। একজন শিক্ষক সব বিষয়ে পড়াতে পারছেন না।’
সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত স্থানীয় অভিভাবক আব্দুল হাছিব শিকদারের বক্তব্য, ‘বিদ্যালয়ে শিক্ষক না থাকায় পড়ালেখায় আগ্রহ হারাচ্ছে তারা। প্রতি বছর এ বিদ্যালয় ছেড়ে শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে।’
সহকারী শিক্ষক নুসরাত আফরিন বলেছেন, ‘একজন শিক্ষক দিয়ে ছয়টি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান সম্ভব নয়। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ না দিলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ হুমকিতে পড়বে। তা ছাড়া আমি কোনো কারণে অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ে অন্য শিক্ষক আসতে চায় না।’
বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ সরকার জানান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সংকটের কথা জানানো হয়েছে।




