ভয়ংকর রংপুর-কাকিনা সড়ক

পিচঢালা সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অন্তত ৫০টি স্থানে ছোট-বড় গর্তের। ছবি : আগামীর সময়
টানা ভারী বৃষ্টিতে রংপুর-কাকিনা আঞ্চলিক সড়কের গঙ্গাচড়া উপজেলার দ্বিতীয় তিস্তা সেতু থেকে মিলনবাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ধস। পিচঢালা সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অন্তত ৫০টি স্থানে ছোট-বড় গর্তের।
এতে প্রতিদিন লালমনিরহাট ও রংপুরের হাজার হাজার মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে, ফলে যেকোনো সময় সড়কটি পুরোপুরি ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ রংপুর ও লালমনিরহাটের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিন চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নানা প্রয়োজনে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।
গত বুধবারও কাকিনা থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে রংপুর শহরে আসার পথে সড়কের ধসে পড়া গর্তে পড়ে পা ভেঙে যায় এক যুবকের। তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর উত্তর প্রান্ত থেকে মিলনবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সড়কের নিচের মাটি ধসে পড়ে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও সড়কের এক পাশ ভেঙে নিচে নেমে গেছে, আবার কোথাও ইটের সলিং ও মাটি পাশের খাদে গিয়ে পড়েছে।
অনেক জায়গায় পিচের স্তর ফাঁপা হয়ে ঝুলে থাকায় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ভারী যানবাহন না চললেও অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাসহ হালকা যানবাহনগুলো এখন চরম বিপদের মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেন জানিয়েছেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে মাটি ধুয়ে গেছে। ফলে ভিত্তি দুর্বল হয়ে একের পর এক স্থানে ধস নামছে। জমে থাকা বৃষ্টির পানির কারণে গর্তগুলো সহজে বোঝা যায় না, বিশেষ করে রাতে এই পথে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী শঙ্কা প্রকাশ করে জানান, এটি এই অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক। টানা বৃষ্টিতে ৫০টি স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে পুরো সড়কটি ভেঙে দুই জেলার যোগাযোগব্যবস্থা যেকোনো সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলী জয়া স্যানাল জানান, অব্যাহত বর্ষণে বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে পড়েছে, তবে এরই মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়েছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেছেন, জনদুর্ভোগ কমাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরুর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।





