সড়ক দুর্ঘটনা হলে প্রথম ১০ মিনিটে কী করবেন

ছবি—এআই
সড়ক দুর্ঘটনার পর প্রথম ১০ মিনিটকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সময়ের মধ্যে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রে আহত ব্যক্তির প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনার পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ও সচেতনভাবে কাজ করাই সবচেয়ে জরুরি।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে প্রথমে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর দুর্ঘটনাস্থলকে যতটা সম্ভব নিরাপদ করে অন্য যানবাহনকে সতর্ক করার ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে আরেকটি দুর্ঘটনা না ঘটে।
এরপর দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ বা নিকটস্থ অ্যাম্বুলেন্স সেবায় ফোন করে দুর্ঘটনার স্থান, আহতের সংখ্যা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানাতে হবে। একই সঙ্গে আশপাশের মানুষকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো যেতে পারে।
আহত ব্যক্তি অচেতন থাকলে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে কি না তা পরীক্ষা করতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকলে অপ্রয়োজনে তাকে টেনে-হিঁচড়ে সরানো উচিত নয়। বিশেষ করে মাথা, ঘাড় বা মেরুদণ্ডে আঘাতের সন্দেহ থাকলে রোগীকে নাড়াচাড়া করলে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
কোনো স্থানে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে পরিষ্কার কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে ক্ষতস্থানে চাপ দিয়ে রক্তপাত কমানোর চেষ্টা করতে হবে। তবে শরীরে গেঁথে থাকা কোনো বস্তু টেনে বের করা যাবে না। আহত ব্যক্তিকে পানি, খাবার বা ওষুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এতে চিকিৎসা জটিল হতে পারে।
দুর্ঘটনার ভিডিও ধারণ বা ছবি তোলার পরিবর্তে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছাতে সহযোগিতা করাই সবচেয়ে মানবিক দায়িত্ব। প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা। এতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার ও গুরুতর জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।




