চেয়ার দখল নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত শতাধিক

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ‘চেয়ার’ দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ওসিসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
আজ সোমবার সকালে ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ও প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে ঘটে এ সংঘর্ষের ঘটনা।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত টেটাবিদ্ধ মুকিত, রকিব, আঙ্গুরসহ অন্তত ১০জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে, সংঘর্ষ চলাকালে ইউনিয়ন পরিষদে থাকা কৃষি প্রণোদনার ১ হাজার ৯৬৫ কেজি চাল ও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা লুট হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আজ সোমবার সকাল ১১ টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষদের মাঝে অনুদানের টাকা ও চাল বিতরণ করছিলেন চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ। এসময় দশ মাস ধরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন এসে ফরিদ আহমেদকে ‘বৈধ চেয়ারম্যান’ নন বলে জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক বির্তকের জেরে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। প্রায় ৩ ঘণ্টা চলে এ সংঘর্ষ।
ঘটনার খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হকসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে এসে ৩ রাউন্ড টিয়ারসেল এবং ৫টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় ওসি শেখ নাজমুল হকসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ জানান, হাইকোর্ট আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য আদেশ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বাক্ষরিত এক পত্রে আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য লিখিতভাবে আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান আমার সব কাগজপত্র ভূয়া বলে আমাকে দায়িত্ব পালনে তার দলবল নিয়ে বাঁধা প্রদান করেন এবং আমার ওপর হামলা চালান।
অভিযোগের বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বলেছেন, ‘ফরিদ আহমেদ দীর্ঘদিন যাবত পলাতক থাকায় আমি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমিসহ আমার পরিষদের সদস্যদের সাথে কোনও ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই হঠাৎ করে ফরিদ আহমেদ ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে চলে আসায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’
বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। ওই এলাকায় পুলিশি টহল অব্যাহত আছে।
এ ব্যাপারে ইউএনও মাহমুদা বেগম সাথীর বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




