হরিপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় ১১ জন, বিজিবির হাই অ্যালার্ট

পুশইন ব্যর্থ হওয়ার পর ঠাকুরগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখায় ১১ জন। ছবি: আগামীর সময়
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইন ব্যর্থ হওয়ায় শূন্যরেখায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় ১১ জন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গতকাল শনিবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ১১ জনের দলটিকে উপজেলার মশালগাঁও বিওপি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবি সদস্যদের তীব্র প্রতিরোধে ব্যর্থ হয় সে চেষ্টা।এরপর থেকে আজ রবিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত শূন্যরেখাতেই আছে দলটি। সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি এখন থমথমে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিজিবি সদস্যরা কড়া নজরদারিতে রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএসএফের সঙ্গে কমান্ডার পর্যায়ে একটি বৈঠকও হয়েছে।’
সীমান্তের এই দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা নিয়ে কথা হয় স্থানীয়দের সঙ্গে। মশালগাঁও এলাকার আলতাফ হোসেন বললেন, ‘শনিবার রাত থেকে শুরু করে এখন একদিনের বেশি হয়ে গেল। মানুষগুলো ওভাবেই জিরো লাইনে পড়ে আছে। তারা রোদে পুড়ছে, বৃষ্টিতে ভিজছে। মানুষগুলোর কষ্ট দেখে খারাপ লাগছে। আবার তারা কারা— এ নিয়েও এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। তবে বিজিবি খুব কড়াকড়ি অবস্থানে আছে।’
সীমান্তবর্তী গ্রামের রহিমা খাতুনের পর্যবেক্ষণ, ‘এতগুলো ঘণ্টা ধরে মানুষগুলো সীমান্তের ওপারে দাঁড়িয়ে আছে, বিএসএফ তাদের নিতে চাচ্ছে না আর বিজিবিও ঢুকতে দিচ্ছে না। এলাকায় এখন কোনো মারামারি না থাকলেও একটা চাপা উত্তেজনা কাজ করছে। বিজিবি ভাইদের পাহারা অনেক জোরদার করা হয়েছে।’
বিজিবি থেকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে— দেশের সীমানায় কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না। সীমান্ত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।




