নওগাঁ সীমান্তে ১৬ ঘণ্টা ধরে খাবার-পানি ছাড়া তিন শিশুসহ ৯ জন

বিএসএফের পুশইনের শিকার তিন শিশুসহ ৯ জন— সংগৃহীত
নওগাঁর আবাদতলা সীমান্তে বিএসএফের পুশইন করা শিশু ও নারীসহ ৯ জন দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা ধরে নো-ম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তীব্র রোদে তারা দিন পার করলেও বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, এ ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও বিএসএফের গাফিলতির কারণে দিন পেরিয়ে গেলেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। পুশইন করা ওই ৯ জন এখনো নো-ম্যান্সল্যান্ডে। তাদের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেছেন, ‘পুশইনের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশ অংশে বিজিবি সদস্যরা তাদের অবস্থান বাড়িয়েছেন, যাতে অবৈধভাবে কেউ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে। পুশইনের ৯ জন তাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ভারত অংশেই থাকবেন।’
এদিকে পুশইনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পাতাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বললেন, ‘বুধবার ভোরে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এর পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশ অংশে বিজিবি ও বিএসএফ অবস্থান নিয়েছেন। এতে গ্রামের লোকজন ধান কাটাসহ অন্যান্য কাজকর্মে যেতে পারছেন না। ভয় পাচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ওই ৯ জন খোলা আকাশের নিচে। খাবার বা পানি কোনো কিছুই তাদের সঙ্গে নেই। তাদের সঙ্গে তিনটি শিশু আছে। এই রোদের মধ্যে এভাবে থাকলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, এই সীমান্ত সমস্যার সমাধান যেন দ্রুত করা হয়।’





