ঘুমধুম সীমান্তে ফের স্থলমাইন বিস্ফোরণ, যুবকের পা বিচ্ছিন্ন

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে যুবকের পা বিচ্ছিন্ন— সংগৃহীত
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে ফের স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে শফি আলম (৩০) নামে এক যুবকের ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এক মাস আগে একই এলাকায় পৃথক মাইন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে তিন বাংলাদেশি।
আজ বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়া এলাকার কাশেম রাজার ঢালার মুখসংলগ্ন একটি কলাবাগানে ঘটেছে এ ঘটনা। আহত শফি আলম কালু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ৪১ নম্বর মেইন পিলার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং কাশেম রাজার ঢালার মুখ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি কলাবাগানে কাজ করছিলেন শফি আলম। বিকালে বাগানে হাঁটার সময় হঠাৎ স্থল মাইন বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেন, বিস্ফোরণস্থলের কাছেই বিজিবি বিওপির কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। বিকট শব্দ শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা শফি আলমকে উদ্ধার করেন তারা। পরে তাকে কাঁধে করে সীমান্ত সড়কে নিয়ে আসা হয়। পরে উখিয়ার কুতুপালংয়ের আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা এমএসএফ পরিচালিত হাসপাতালে নিয়ে যান তার মা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শফি আলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বললেন, ‘জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন অনেক মানুষ সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি এলাকা, বাগান ও কৃষিজমিতে কাজ করতে যান। কিন্তু ঘনঘন মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।’
আরেক বাসিন্দা আবুল বশর মন্তব্য করেন, সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকটি এলাকায় এখনো স্থলমাইনের ঝুঁকি রয়ে গেছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় পর্যাপ্ত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই অজান্তেই বিপদের মুখে পড়ছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘সীমান্তবর্তী একটি কলাবাগানে স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় শফি আলম নামে একজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবিকে অবহিত করা হয়েছে।’
৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলমের ভাষ্য, ‘সীমান্তের পাহাড়ি এলাকার একটি কলাবাগানে স্থল মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় এক ব্যক্তি আহত হওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’
গত ৪ মে ঘুমধুম সীমান্তের একই এলাকায় পৃথক দুটি স্থলমাইন বিস্ফোরণে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের তিনজন নিহত হন। এ ছাড়া গত ২৪ মে একই এলাকায় আরও একটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় সীমান্তবর্তী জনপদে আতঙ্ক বাড়ছে।





