পাশাপাশি চার কবরে মা-তিন বোন, বাগ্রুদ্ধ সিফাত

ছবি: আগামীর সময়
একই দিনে পাশাপাশি চারটি কবর। সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এক মা ও তার তিন মেয়ে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার এই চারজনের দাফন সম্পন্ন হয় কুমিল্লার হোমনায় স্বজনদের অশ্রু আর হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে। আর সেই পরিবারের বেঁচে থাকা একমাত্র সদস্য সিফাত রয়ে গেল একা— স্বজনহারা, বাগ্রুদ্ধ।
গতকাল শুক্রবার রাত ১০টা ৫ মিনিটে কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার লটিয়া ঈদগাহ মাঠে আনা হয় চারজনের মরদেহ। সেখানে তাদের যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজা পড়িয়েছেন মুফতি সামসুল হক আরিফী।
হত্যাকাণ্ডে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছে মো. সিফাত। ঘটনার সময় বাসার বাইরে থাকায় সে প্রাণে বেঁচে যায়।
এবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এই কিশোর ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর থেকে একাই মা ও তিন বোনের মরদেহ হোমনায় নিয়ে আসে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেন গ্রামবাসী ও স্বজনরা। আপনজন হারানোর শোকে সিফাত এখন নির্বাক।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের ভাড়া বাসায় ঢুকে শাহীনুর আক্তার (৩৮) ও তার তিন মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন সাবেক ভাড়াটিয়া অন্তর মজুমদার। ঘটনাস্থলেই শাহীনুর, বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে সিফা আক্তার (১০) মারা যান। গুরুতর আহত মেজো মেয়ে ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকরা আক্তারকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে উত্তেজিত জনতার পিটুনিতে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারেরও মৃত্যু হয়।
শাহীনুরের স্বজনরা জানায়, প্রায় দেড় বছর একই ভবনের পাঁচ তলায় ভাড়া থাকতেন অন্তর। প্রায় আট মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যায়। অন্তর জানতেন, শাহীনুরের কাছে বাসাভাড়ার টাকা ও কিছু স্বর্ণালংকারও ছিল। ডাকাতির উদ্দেশে অন্তর ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে ধারণা তাদের।
শাহীনুরের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ বলেছেন, ‘আমার বোনের স্বর্ণালংকার ছিল। সেগুলো লুট করতেই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। ঘটনাটির মূল ঘটনা উদ্ঘাটনসহ অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা বের করার দাবি জানাচ্ছি।’
প্রায় ৩০ বছর রায়পুরে বসবাসের পর জীবনের শেষ ঠিকানা হলো নিজ জন্মভূমি হোমনা। স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এক পরিবারের চার সদস্য।





