দর্শনা রেলবন্দরে বাড়ছে পণ্য আমদানি, ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

ছবি: আগামীর সময়
ভারত থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলপথ দিয়ে আবারও বেড়েছে পণ্য আমদানি। ফলে দর্শনা রেল ইয়ার্ডে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য।
মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ায় শ্রমিক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ট্রাকচালক, পরিবহন শ্রমিক ও বেড়েছে ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা। একই সঙ্গে রাজস্ব আয়ও বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরকার পরিবর্তনের পর একসময় ডলার সংকট ও এলসি জটিলতার কারণে কমে গিয়েছিল আমদানি। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী এলসি অনুমোদন হওয়ায় আবারও সয়াবিন, ভুসি, পাথর, পেঁয়াজ, ভুট্টাসহ স্বাভাবিক হয়েছে বিভিন্ন পণ্য আমদানি।
চলতি মাসের ২৬ জুন পর্যন্ত দর্শনা রেল ইয়ার্ডে খালাস হয়েছে ২০টি মালবাহী রেক। মাস শেষে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, নিয়মিতভাবে এ ধরনের রেক এলে ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক, চালক ও আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন শ্রমিকরা।
সরেজমিনে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেল ইয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ওয়াগন থেকে আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত খালাস করে তোলা হচ্ছে ট্রাকে। পরে এসব পণ্য পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এতে কর্মব্যস্ততা চোখে পড়েছে ইয়ার্ডজুড়ে।
ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী শাহিন পারভেজ জানিয়েছেন, বর্তমানে পণ্য আমদানিতে তেমন কোনো সমস্যা নেই। চাহিদা অনুযায়ী সয়াবিন, ভুসি, পাথর, পেঁয়াজসহ আমদানি করা যাচ্ছে ভুট্টাও।
কাস্টমসের এক ঊর্ধ্বতন বলেছেন, ‘চলতি অর্থবছরে প্রায় ২০০টি রেকে পণ্য আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এরইমধ্যে এ রুটে বেড়েছে আমদানি কার্যক্রম। যা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে।’
তার ভাষ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলপথ দিয়ে ৯ হাজার ৭৪৯টি ওয়াগনে ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৫৫৯ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছিল। এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয় ২৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
‘২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি কমে ৪ হাজার ৪৮৬টি ওয়াগনে ২ লাখ ৫২ হাজার ১০১ মেট্রিক টনে নেমে আসে। সে সময় রাজস্ব আদায় হয় ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।’
তবে চলতি অর্থবছরে পণ্যবাহী ওয়াগনের সংখ্যা ও আমদানির পরিমাণ বাড়ায় রাজস্ব আয় অনেকটা বাড়বে পাবে বলে তারা আশাবাদী।
চুয়াডাঙ্গা দর্শনা আন্তর্জাতিক রেল স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাজমা ইয়াসমিন আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলপথ একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। গত বছরের ৫ আগস্টের পর এ রুটে মালবাহী ট্রেনের চলাচল ও আমদানি কমে গিয়েছিল। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভুট্টা, পাথর, ফ্লাই অ্যাশসহ সংখ্যা বেড়েছে বিভিন্ন পণ্যবাহী ওয়াগনের। আমদানিকারকরা নিয়মিত এ রুট ব্যবহার করলে ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিকসহ আয় বাড়বে বাংলাদেশ রেলওয়েরও।





