আগামীর সময়ে সংবাদ প্রকাশ
পানিবন্দি পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাশে নাগেশ্বরীর ইউএনও

ছবি: আগামীর সময়
দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় কষ্টে ছিল কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর দুটি বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। টানা বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ে যেতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল তাদের।
গত ২০ মে আগামীর সময় অনলাইনে ‘নাগেশ্বরীতে পানিবন্দি দুই বিদ্যালয়ে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর দ্রুত উদ্যোগ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম খোদাদাদ হোসেন। আপাতত শুরু হয়েছে পানি নিষ্কাশনের কাজ। নেওয়া হয়েছে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগও।
গতকাল শুক্রবার বিদ্যালয় এলাকা পরিদর্শন করে অস্থায়ীভাবে পাইপলাইন বসিয়ে পানি নিষ্কাশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ইউএনও।
বিদ্যালয় দুটি হলো উপজেলার সাপখাওয়া উচ্চবিদ্যালয় ও বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
ইউএনও এইচ এম খোদাদাদ হোসেন জানিয়েছেন, সরকারি বরাদ্দ না থাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে এক লাখ টাকা ধার করে আপাতত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত একটি ড্রেনেজব্যবস্থা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি কালভার্ট কয়েক মাস আগে ভেঙে যাওয়ার পর তা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। পরে কালভার্টের দুই পাশে বালু ভরাট করায় পানি চলাচলের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের মাঠ, বারান্দা ও আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি পাঠদানও ব্যাহত হয়।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে তাদের বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায়।
শিক্ষকদের ভাষ্য, জলাবদ্ধতার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব ও দুর্গন্ধে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হচ্ছিল না।
সাপখাওয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি বলেছেন, ভেঙে যাওয়া কালভার্ট পুনর্নির্মাণ এবং স্থায়ী ড্রেনেজব্যবস্থা নির্মাণ করা হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
ইউএনওর এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্য, মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় নবাগত ইউএনও প্রশংসার দাবিদার। এমন জনবান্ধব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
পানি নিষ্কাশন কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান দীপ মণ্ডল, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ কবীর, নাগেশ্বরী উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল মান্নান মিঞা, নাগেশ্বরী পৌর বিএনপির সদস্যসচিব আজিজুল হক, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সংশ্লিষ্ট জমির মালিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।





