সান্তাহারে জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ

বগুড়ার সান্তাহার পৌরসভার চা বাগান মহল্লা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ছবি: আগামীর সময়
টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডের সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ।
গত বুধবার দিবাগত রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের ফলে অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন পরিষ্কার না করা ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
পৌর এলাকার চা বাগান মহল্লার বাসিন্দা ও সান্তাহার মহিলা কলেজের শিক্ষক ফিরোজ মো. আসাদুল হক বলেছেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই সান্তাহারের চা বাগান এলাকা তলিয়ে যায়। বাসিন্দারা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়লেও সান্তাহার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এই এলাকা নিয়ে একেবারে নির্বিকার। এখানকার মানুষের চিৎকার পৌর মেয়রের কানে পৌঁছায় না। গত দুই দিনের টানা বর্ষণে আমার বাড়ির ভেতরে, এমনকি শয়নকক্ষেও পানি ঢুকে গেছে। ময়লা জমে ড্রেন বন্ধ হয়ে থাকায় পানি নামতে পারছে না। আমরা নিয়মিত পৌর কর পরিশোধ করি। কিন্তু প্রথম শ্রেণির পৌরসভার বাসিন্দা হয়েও যদি এমন জলাবদ্ধতার শিকার হতে হয়, তাহলে নাগরিক সেবার মান কোথায়? বছরের পর বছর ধরে আমরা এ সমস্যা মোকাবেলা করে আসছি।’
একই এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক মর্তুজা সেলিম বললেন, ‘আমার বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। মহল্লার অনেক বাড়িতেই একই অবস্থা। এ সমস্যা সমাধানে এর আগেও একাধিকবার পৌর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিবছর বর্ষা এলেই আমাদের একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন, সামান্য থেকে মাঝারি বৃষ্টিতেই পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে যায়। এতে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন ঘটে।
নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের পথ সচল এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সান্তাহার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবু রায়হান মণ্ডলের ভাষ্য, অতিবৃষ্টির কারণেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যেও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কাজ করছেন। আশা করছি খুব দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হবে।





