মন্ত্রীর জনসভায় পকেটমার, মোবাইল-মানিব্যাগ হারালেন নেতারা

ধনবাড়ী থানা। ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে মন্ত্রীর সমাবেশে যোগ দিতে এসে বিপাকে পড়েন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে সংঘবদ্ধ পকেটমার চক্র। মুহূর্তেই হাতিয়ে নেয় মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, টাকা ও ব্যাংক কার্ড। অনুষ্ঠান শেষে অনেকেই টের পান, তাদের পকেট ইতোমধ্যেই খালি।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের উপস্থিতিতে আয়োজিত একাধিক জনসভায় এ ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগ উঠেছে, কর্মী সেজে আসা একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে চুরি করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, টাকা ও ব্যাংক কার্ড।
গত শুক্রবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়ন, ধনবাড়ী পৌর শহরের নবাব বাড়ি ঈদগাহ মাঠ, নবাব ইনস্টিটিউটের খেলার মাঠ এবং বাজার সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানসহ একাধিক রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি। এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী।
একাধিক সূত্র জানায়, ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক (ভিপি)। চুরি হয়েছে তার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য ও ধোপাখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল হোসেন তালুকদার মিন্টু, মধুপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালিব হোসেন, ধনবাড়ী উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আলী আল শাফি রিমু, বিএনপি নেতা রাঙ্গা, পৌর যুবদল নেতা নাছির, ছাত্রদল নেতা ইসমাইলসহ আরও কয়েকজনের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও ব্যাংক কার্ড খোয়া গেছে।
এনামুল হকের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে জানা যায়, চুরি হয়েছে তার ফোনটিও।
মোবাইল ফোন ও ব্যাংক কার্ড হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধুপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালিব হোসেন। তবে কত টাকা খোয়া গেছে, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র কর্মী পরিচয়ে জনসমাগমে প্রবেশ করে পকেটমারির ঘটনা ঘটিয়েছে। ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক সমাবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ধনবাড়ী থানার ওসি নুরুস সালাম সিদ্দিক আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনায় একজন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





