সংবাদ প্রকাশ
গ্যাস লাইনের ওপরের স্থাপনা সরাল তিতাস

তিতাসের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, সংবাদ প্রকাশের পর উদ্ধার। ছবি: আগামীর সময়
এক পাশে বসতঘর, অন্য পাশে সীমানাপ্রাচীর। মাঝখানে মাটির নিচে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন। গ্যাস লাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি কাজের জন্য জমিটি উন্মুক্ত রাখার কথা। অথচ সেই অধিগ্রহণ করা জমিতেই গড়ে উঠছিল একের পর এক স্থাপনা।
স্থানীয়দের অভিযোগের পর সংবাদ প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে তিতাস কর্তৃপক্ষ। পরে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থাপনা সরিয়ে উন্মুক্ত করা হয় পাইপলাইন। পাশাপাশি ‘ওপেন কার্ড’ দিয়ে পাইপলাইনের অবস্থানসহ চিহ্নিত করা হয়েছে অধিগ্রহণ করা জমির সীমানা।
ঘটনাটি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের আওড়াখালী বাজারসংলগ্ন কাউলিতা গ্রামের। তিতাস গ্যাসের লাইনম্যান মোস্তফা জানিয়েছেন, প্রথমে মৌখিকভাবে গ্যাস লাইনের সীমানা দেখানো হয়েছিল স্থানীয়দের। তারা সেই সীমানা মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় তাদের আবেদনের ভিত্তিতে ‘ওপেন কার্ড’ করা হয়। এর মাধ্যমে পাইপলাইন উন্মুক্ত করে প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পরে গ্যাস লাইনের ওপর থাকা স্থাপনাগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ ছিল, একই গ্রামের মো. মোস্তফা খান তিতাসের অধিগ্রহণ করা জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন। অন্যদিকে ছালেকা খাতুন নতুন করে সিমেন্টের খুঁটি ও টিন দিয়ে সীমানা নির্মাণ করছিলেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওই স্থাপনাগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে গ্যাস লাইনের জমি দখল বা বন্ধ না করার বিষয়ে ছালেকা ও মোস্তফাকে সতর্ক করা হয়েছে।
তিতাসের লাইনম্যান মোস্তফা জানিয়েছেন, তিতাস গ্যাস লাইনের ওপর কোনো স্থাপনা করা যাবে না। জায়গাটি সবসময় উন্মুক্ত রাখতে হবে।
তিতাস গ্যাস গাজীপুর অপারেশন ডিভিশনের ব্যবস্থাপক সাইফুজ্জামান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তিতাসের অধিগ্রহণ করা জমি ও গ্যাস লাইন নিরাপদ রাখা তাদের দায়িত্ব। বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরেজমিনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্যাস লাইনের ওপর থাকা স্থাপনা অপসারণ করে পাইপলাইন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্যাস লাইন রক্ষণাবেক্ষণ, জরুরি মেরামত ও নিরাপদ পরিচালনার স্বার্থে লাইনের ওপর কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা উচিত নয়। এ বিষয়ে স্থানীয়দের সচেতন ও সহযোগিতা করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।





