পিত্তথলির পাথর অপারেশনে নারীর মৃত্যু, ‘১ লাখ টাকায় মিটমাটের প্রস্তাব’

পলি ক্লিনিক
বাগেরহাট পৌরসভার একটি ক্লিনিকে পিত্তথলির পাথর অপারেশনের সময় এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলার কারণে এ ঘটনা বলে অভিযোগ পরিবারের। এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি চুপচাপ মিটমাটের প্রস্তাব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ- বলছেন স্বজনরা।
মৃত গৃহবধূর নাম নাছিমা আক্তার (২০)। তিনি কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বারদাড়িয়া গ্রামের সুমন সরদারের স্ত্রী।
তার পরিবার জানায়, পিত্তথলিতে পাথর থাকায় গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে নাছিমাকে পৌরসভার পলি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। ক্লিনিকের পরিচালক ডা. সুনীল কুমারের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় অপারেশন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর অপারেশন টেবিলেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে স্বজনদের দেওয়া হয় তার মৃত্যুর খবর।
সুমন সরদার বলেছেন, ‘আমরা এই ক্লিনিকে অপারেশন করাতে চাইনি। এরপরও চিকিৎসক আমাদের এখানে থাকতে বলেন। আমার সাত মাসের একটি সন্তান আছে। স্ত্রীকে হারিয়ে সন্তানকে কীভাবে মানুষ করবো।’
বিষয়টি নিয়ে কথা না বাড়াতে তাকে এক লাখ টাকা দিতে চেয়েছে হাসপাতার কর্তৃপক্ষ- দাবি সুমনের। ‘এক লাখ টাকা তো দূরের কথা, এক কোটি টাকা দিলেও আমার স্ত্রীকে ফিরে পাব না। আমি এই চিকিৎসকের বিচার চাই।’
নাছিমার এক স্বজনের ভাষ্য, রাতে তারা অপারেশন থিয়েটারের পাশে ছিলেন। একপর্যায়ে ভেতর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। জানতে চাইলে তাদের বলা হয়, একজন নার্স চিৎকার করেছেন। রোগীর অবস্থা ভালো আছে বলেও জানানো হয়। কিন্তু ভোরে বলা হয়, নাছিমা মারা গেছেন।
স্থানীয় রতনের অভিযোগ, এর আগেও ওই ক্লিনিকে কয়েকজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি।
তবে এসব অস্বীকার করেছেন পলি ক্লিনিকের পরিচালক ডা. সুনীল কুমার। তিনি জানিয়েছেন, পিত্তথলিতে পাথর নিয়ে নাছিমা ক্লিনিকে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সোমবার রাতে তার অপারেশন করা হয়। অপারেশনের সময় হঠাৎ তার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা অপারেশন থিয়েটারে থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
ডা. সুনীলের দাবি, ‘প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই অপারেশন করা হয়েছিল। সাধারণত অপারেশনের আগে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এটি একটি দুর্ঘটনার মতো ঘটেছে।’
নাছিমার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজনরা ক্লিনিকে জড়ো হন। সেখানে তৈরি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ. স. ম. মাহবুবুল আলমের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।





