হিলিতে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলে দিশেহারা গ্রাহক, তদন্তের দাবি

হিলি সাব জোনাল অফিস— সংগৃহীত
দিনাজপুরের হিলিতে পল্লী বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কয়েক মাস আগেও যেখানে বিদ্যুৎ বিল স্বাভাবিক ছিল, সেখানে হঠাৎ অনেক গ্রাহকের বিল দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়া এসব পরিবার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তায় পড়েছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দাবি, লোডশেডিং কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়েছে এবং ইউনিট মূল্য বৃদ্ধির কারণেই অনেকের বিল বেশি এসেছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে হিলি পল্লী বিদ্যুতের সাব-জোনাল অফিসে গিয়ে দেখা যায়, বিল পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি। শুধু বিল জমা দিতেই নয়, অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ জানাতেও সহকারী মহাব্যবস্থাপকের (এজিএম) কক্ষের সামনে ভিড় করেন অসংখ্য গ্রাহক। অনেকের হাতেই ছিল আগের ও বর্তমান মাসের বিল। তাদের প্রশ্ন, বিদ্যুৎ ব্যবহার না বাড়লেও বিল এত বাড়ল কীভাবে?
হাকিমপুর উপজেলার ১ নম্বর খট্টা ইউনিয়নের বাসিন্দা বিপ্লব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘পল্লী বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলে আমরা দিশেহারা হয়ে গেছি। দুই মাস আগেও আমার বিদ্যুৎ বিল ছিল দুই হাজার থেকে দুই হাজার দুইশ টাকার মধ্যে। গত মাসে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার সাতশ টাকা, আর চলতি মাসে এসেছে সাত হাজার টাকারও বেশি। আমাদের ব্যবহারে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাহলে এই অতিরিক্ত বিল কোথা থেকে এলো? এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের পক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহার করাই কঠিন হয়ে যাবে।’
হিলি বাজারের বাসনপট্টির ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান, পলাশ ও আপেলসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, তাদের দোকানের বিদ্যুৎ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। অথচ কয়েক মাসের ব্যবধানে বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তাদের ভাষ্য, আগেও যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন, এখনও প্রায় একই পরিমাণ ব্যবহার করছেন। কিন্তু বিল এসেছে দ্বিগুণেরও বেশি। এতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানান।
স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট কবির উদ্দিন মন্তব্য করেন, এই সাব-জোনাল অফিসে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অনেক মিটারের রিডিং নেওয়া হয় না। ফলে একাধিক মাসের ইউনিট একসঙ্গে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত বিল আসে। নিয়মিত মিটার রিডিং নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। পাশাপাশি বিলিং ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেক সময় মিটার রিডিং যথাসময়ে সংগ্রহ না করে অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করা হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের বকেয়া ইউনিট একসঙ্গে যোগ হওয়ায় বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এসব কারণে প্রকৃত ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বহন করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে হিলি সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী বলেছেন, ‘বর্তমানে আগের তুলনায় লোডশেডিং অনেক কম। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে। এছাড়া বিদ্যুতের ইউনিট মূল্যও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণে অনেক গ্রাহকের বিল বেশি আসছে। তবে কোনো গ্রাহকের মিটারের রিডিং বা বিলে অসঙ্গতির অভিযোগ থাকলে আমরা তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
তবে কর্তৃপক্ষের এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অধিকাংশ গ্রাহক। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ ব্যবহার না বাড়লেও বিল অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি মিটারের নিয়মিত রিডিং গ্রহণ, বিল প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।





