ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতার থানায় আত্মসমর্পণ

মোহন তালুকদার। সংগৃহীত ছবি
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনার মামলায় আত্মসমর্পণ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা মোহন তালুকদার। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মোহনগঞ্জ থানায় আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
অভিযুক্ত মোহন মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা।
আজ শনিবার সকালে মোহনের আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল রহমান হারুন।
আত্মসমর্পণ করার পূর্বে সাংবাদিকদের মোহন বলেছেন, ‘আমি বাংলাদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, যে বিষয়টা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে, সে অভিযোগটা মিথ্যা। এজন্য আমি মোহনগঞ্জ থানার প্রতি বিশ্বাস রেখে পুলিশে কাছে সারেন্ডার (আত্মসমর্পণ) করছি। আইনের কাছে আমি সুষ্ঠু বিচার চাই। এটাই আমি আশা করি।’
এর আগে, ১০ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ ও সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় মামলা হয় মোহনের বিরুদ্ধে। এ সংবাদ প্রকাশের পর গত মঙ্গলবার তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে দলীয় পদ থেকে। এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল মোহনগঞ্জ পৌর শাখা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল মোহনগঞ্জ পৌর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোহন তালুকদারকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
আগামীর সময়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর মামলা ও ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। এরপর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মোহনগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল অভিযুক্ত মোহনকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শিশুটির বাবা দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। মা স্থানীয়ভাবে বাসাবাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান। মামলায় শিশুটিকে মানসিক প্রতিবন্ধী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে ঘরে শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন ছিল। এ সময় ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী মোহন। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলা এবং সংঘবদ্ধ ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি দীর্ঘদিন গোপন রাখে ঘটনাটি।
মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা জানালেন, চলতি বছরের ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখা দিলে সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। পরদিন একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাম করালে রিপোর্টে ১৩ সপ্তাহের গর্ভধারণের তথ্য পাওয়া যায়। ১৫ মার্চ অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও একই ধরনের রিপোের্ট আসে। ওইদিন পরিবারটি মোহনগঞ্জ থানায় গেলে আদালতে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানালেন তারা। পরে ২৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ করেন শিশুটির মা। মোহনগঞ্জ থানাকে মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। ২ মে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
মামলা হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন অভিযুক্ত মোহন। কিন্তু তার ফেসবুক প্রোফাইলে এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি পোস্ট করেন তিনি।





