প্রবাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত, জানাজা শেষে দাফন নান্দাইলে

জীবিকার সন্ধানে বিদেশ, ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে। ছবি: আগামীর সময়।
জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার প্রবাসী রুহুল আমিন (৪২)। পরে দাফন সম্পন্ন হয়েছে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। দীর্ঘ প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর রবিবার জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
নিহত রুহুল আমিন নান্দাইল উপজেলার বীর কামটখালী গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্ত্রী দিপালী ও আট বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে আতিকাকে রেখে গেছেন মৃত্যুকালে।
পরিবার জানায়, প্রায় ছয় বছর ধরে সৌদি আরবে ক্লিনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন রুহুল আমিন। গত ১০ জুন কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে ভর্তি করার পর দুই দিন চিকিৎসাধীন থেকে ১২ জুন তিনি মারা যান। পরে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২৭ জুন রাতে তার মরদেহ দেশে আনা হয়।
জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহতের বড় ভাই মোবারক হোসেন বলছিলেন, ‘আমার ভাই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। পরিবারের সুখের জন্য বছরের পর বছর প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু সেই মানুষটিই আজ লাশ হয়ে ফিরলেন। আমরা সরকারের কাছে পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাই।’
স্ত্রী দিপালী বললেন, ‘আমার স্বামী সংসারের ভবিষ্যৎ গড়তে বিদেশে গিয়েছিলেন। এখন ছোট মেয়েকে নিয়ে কীভাবে জীবন চলবে, জানি না। সবার কাছে তার জন্য দোয়া চাই।’
বীরবেতাগৈর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম মণ্ডল বলেছেন, ‘রুহুল আমিন ছিলেন একজন সৎ, পরিশ্রমী ও ভদ্র মানুষ। তার অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই এবং সমাজের সামর্থ্যবানদের তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।’




