খোলপেটুয়া নদীর চর দখল করে বালুর আড়ত বসানোর পাঁয়তারা

শ্যামনগরের কাশিমাড়ির ঝিপালি এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর চর দখল করছে একটি চক্র। ছবি: আগামীর সময়
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের ঝাপালী এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর চর দখল করে বালুর ব্যবসার আড়ত গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি চক্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ কাজে সহায়তা করছেন এলাকার এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। কয়েকদিন ধরে প্রকাশ্যে নদী ভরাটের কাজ চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো নেওয়া হয়নি কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ঝাপালী খেয়াঘাট সংলগ্ন নদীর ভেতরে প্রায় ৬০০ ফুটের বেশি জায়গাজুড়ে ১৫ থেকে ১৬ জন শ্রমিক মাটি ও বালু ফেলে বাঁধ নির্মাণ করছেন। স্থানীয়দের ধারণা, এই ভরাটের পেছনে রয়েছে বালুর আড়ত স্থাপনের পরিকল্পনা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রিকাত সরদার, আয়জুল সরদার ও পলাশ হোসেনের নেতৃত্বে চলছে এই ভরাট কার্যক্রম। কয়েকদিন ধরে প্রকাশ্যে কাজ করলেও কোনো জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি দখলদারদের।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আহাদ অভিযোগ করেন, দখলের আগে ভূমি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে শুরু হয়েছে এ কাজ। বারবার জানালেও গুরুত্ব দিচ্ছেন না তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন জানান, দখলদাররা রাজনৈতিক ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ সাহস পাচ্ছেন না প্রতিবাদ করার। ফলে দিনের বেলায় প্রকাশ্যেই নদী দখলের কাজ চালাচ্ছেন তারা।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আয়জুল সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, আমি ভরাটের সঙ্গে জড়িত নই। এলাকায় অনেকে নদীর জায়গায় বাড়ি করছে। সেগুলো না দেখে শুধু এ বিষয়ে কেন কথা বলা হচ্ছে।
অপর অভিযুক্ত পলাশ হোসেন বালুর আড়ত বসানোর কথা অস্বীকার করে বলেছেন, ওখানে একটি কবরস্থান তৈরির জন্য ভরাট করা হচ্ছে। বালুর ব্যবসার জন্য নয়।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন কর্মকর্তা সুমন রায় বলেছেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাশিমাড়ি ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা তফসিলদার কামাল হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এদিকে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামছুজ্জাহান কণকের ভাষ্য, তাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি।
তবে নদীর চর দখলের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি অবগত হলেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।




