আদালতে মেয়ে নির্জনা হত্যার দায় স্বীকার করলেন বাবা আকাশ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মেয়ে আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ। আজ রবিবার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১-এর বিচারক মো. আসাদুর জামান তার জবানবন্দি গ্রহণ (রেকর্ড) করেন। পরে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করা হয়।
এর আগে গত শনিবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে তাকে ডুমুরিয়া সদরের আব্দুল কুদ্দুসের চায়ের দোকানে র্যাব ও পুলিশ সদস্য যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে খুলনা সদর থানায় নিয়ে আসা হয়। এদিকে, গত ১০ জুলাই নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন।
আদালতে মায়ের পর বাবার স্বীকারোক্তি প্রদানের মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা সদর থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেছেন, গত শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারের পর থেকে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য দিয়েছেন। রবিবার সকালে স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিতে চাইলে দুপুরের পর আকাশকে আদালতে হাজির করা হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ৮ জুলাই সকাল ১০টার কিছুক্ষণ পর স্বামী রনির সঙ্গে চলে যাওয়ার জন্য নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাড়ি থেকে বের হয় নির্জনা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে রাস্তা থেকে তুলে বাড়ি নিয়ে আসেন। ওই দিন সন্ধ্যার আগে মা সীমার সঙ্গে নির্জনার কথা-কাটাকাটি হয়। ওই সময় আকাশ তাদের চুপ করতে বলেন। কিন্তু তারা না থামলে বাবা আকাশ কাঠের চলা দিয়ে আঘাত করলে সেটি নির্জনার মাথায় গিয়ে লাগে। এতে নির্জনার মৃত্যু হয়। সন্ধ্যার পর লাশ গুম করার জন্য তারা কালো রঙের লুঙ্গি দিয়ে মেয়েকে বেঁধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে দোতলা থেকে নিচে নিয়ে আসে। বেশ কয়েকবার লাশটি মোটরসাইকেলে ওঠানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় তারা। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলে বস্তাবন্দি লাশটি উঠিয়ে বিভিন্নস্থানে ঘুরতে থাকে আকাশ। কোথায় ফেলবে মেয়ের লাশ তা আকাশের মাথায় আসছিল না। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার নির্জন একটি রোডে ফেলে দেন তিনি। বাড়ি ফেরার পর স্বামী-স্ত্রী দুজনই রক্ত মুছে ফেলে। রাতে তাদের মধ্যে মেয়ের জন্য অনুশোচনার সৃষ্টি হয়। মেয়ের জন্য রাতভর কান্নাকাটি করেন তারা এবং সকালে বাসা থেকে পালিয়ে যায় ।
ভূমি নেই ভূমি অফিসের
১৯ জুলাই ২০২৬
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বললেন, বস্তাবন্দি রক্তাক্ত লাশটি উদ্ধার করার পর হত্যাকাণ্ডের কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পিবিআই ও সিআইডি প্রথমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। লাশটির পরিচয় শনাক্ত করা নিয়ে আমরা খুব চিন্তায় ছিলাম। ঘটনার দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতের ছবিটি প্রকাশ করা হয়। পরের দিন বিকালে লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তিনি আরও জানান, সবচেয়ে আশ্চার্যের বিষয়টি ছিল মা-বাবাকে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে নির্জনার মা সীমাকে থানায় আনা হয়। প্রথমদিকে মেয়ে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। পরে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেন তিনি। ঘটনার ৬ দিন পর আকাশের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, কিশোরী নির্জনার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার হওয়ার পর খুলনা মহানগরীতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের বাবা-মা জড়িত।





