ভূমি নেই ভূমি অফিসের

সোহাগী ইউনিয়ন ভূমি অফিস— আগামীর সময়
ভূমি অফিসের নেই ভূমি, নেই রাস্তা। সেবা নিতে এসে দুর্ভোগে পড়ছেন শত শত মানুষ। রাস্তা নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হলেও উপজেলা প্রশাসন বলছে, এখন পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
ভূমি অফিস সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের সোহাগী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নিজস্ব রাস্তা ছিল না। পরে অফিসের সামনে থাকা একটি পুকুরের প্রায় ১৪ শতক সরকারি জমি চিহ্নিত হলে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেন।
পুকুরের মালিকের সঙ্গে এওয়াজের মাধ্যমে জমি বিনিময় সম্পন্ন হলে পুকুরপাড়ের একটি অংশ ভূমি অফিসে যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা ওই সরু পুকুরপাড় দিয়েই যাতায়াত করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওই কাঁচা পথে মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ। রিকশা বা অন্য কোনো যানবাহন প্রবেশের সুযোগ নেই। উঁচু ও সরু পুকুরপাড় দিয়ে চলাচলের সময় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
তবে স্থানীয় এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, সোহাগী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একসময় রাস্তা ছিল। রাস্তাটি বেশ চওড়া ছিল। এই রাস্তা দিয়ে গরুর গাড়িও চলত। তবে ধীরে ধীরে ভূমি অফিসের অসাধু লোকদের সহযোগিতায় রাস্তা বন্ধ করে জায়গা দখল করে নেওয়া হয়। ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ড করা হয় রাস্তার জমি। দখল করা জায়গায় নির্মাণ হয় ঘর-বাড়ি। এরপর থেকেই রাস্তা ছাড়া চলছে ভূমি অফিসের কার্যক্রম।
ভূমি অফিসের নায়েব মো. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা নিজস্ব রাস্তা ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এওয়াজের মাধ্যমে রাস্তার জন্য জমির ব্যবস্থা হয়েছে। পুকুরের মালিকের সঙ্গে একটি চুক্তিপত্র করা হয়েছে। এখন বরাদ্দের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে জনগণের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।’
তিনি জানান, জেলা পরিষদ থেকে রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তারা শুনেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল বাকির ভাষ্য, ‘আমরা আগে অনায়সে সোহাগী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যাতায়াত করতে পারতাম। এখন যাতায়াত করা কঠিন। আমাদের মতো বয়স্ক লোকদের জন্য আরও কঠিন। নির্দিষ্ট ও চলাচলযোগ্য একটি রাস্তা দরকার।’
বরাদ্দের বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান। তিনি মন্তব্য করেন, ‘জেলা পরিষদ থেকে সোহাগী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জন্য কোনো বরাদ্দ আসেনি। বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছিল, তবে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। নতুন করে আবার আবেদন করা হবে।’
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাসের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।





