গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখাই এখন সবার দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

সিলেট নগর ভবনে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
দেশে গণতন্ত্রের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, এখন তা টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব সবার বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্রকে শুধু অর্জন করলেই হবে না, এটি টিকিয়ে রাখতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দ্বিমত ও মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে সংসদকে কার্যকর করা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা বিরোধী দলের দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে। কোনো পক্ষকেই অবহেলা করা উচিত নয়।’
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে সিলেট নগর ভবনে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘সিলেট তার অত্যন্ত প্রিয় জায়গা। সিলেটের মানুষের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। এ অঞ্চলের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্য রয়েছে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে আলাদা। সিলেটের চা-বাগান ও ঐতিহ্য এ অঞ্চলকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।’
‘সিলেটের মানুষ যেমন অতিথিপরায়ণ ও আত্মীয়তাপ্রিয়, তেমনি অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদীও। প্রবাসীরা সিলেটের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তারা আরও বেশি করে এগিয়ে এসে বিনিয়োগ করলে সিলেটের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে’— যোগ করেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য, প্রবাসী বিনিয়োগ বাড়লে সিলেটের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। এ খাতকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
সিলেটের উন্নয়নে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম এ সাইফুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বললেন, ‘তিনি (এম এ সাইফুর রহমান) সিলেটের উন্নয়নের অন্যতম রূপকার ছিলেন। তার উন্নয়নভাবনা ও অবদান সিলেটবাসী দীর্ঘদিন স্মরণ করবে।’
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তাকে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেটের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সদস্যসহ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা।
বিমানবন্দর থেকে তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে যান। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের দরগাহ গেট এলাকায় হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে দেশ ও জনগণের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর খাদিমনগরে হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং সেখানে যোহরের নামাজ আদায় করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম সিলেট সফর। তার আগমন উপলক্ষে সিলেট মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে তাকে স্বাগত জানান।
বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে নগর ভবনে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। সেখানে সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সিলেটের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির স্মারক হিসেবে রাষ্ট্রপতির হাতে শীতল পাটি, চা পাতার বিশেষ প্যাকেট ও চা গাছের রেপ্লিকা তুলে দেওয়ার আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রপতিরি সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমের জন্য রাখা হয় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী শাড়ি। রাষ্ট্রপতির এ সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীতে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।



