সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

সিলেট সদর হাসপাতাল
সিলেটে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৫৫ জন। বর্তমানে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৩২ জন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এসব তথ্য জানিয়েছেন সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুই শিশুর একজনের মৃত্যু হয়েছে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। অপরজন মারা গেছে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে।
শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা যাওয়া শিশুটির নাম আদিয়ান। তার বয়স মাত্র চার মাস। সে সিলেট সদর উপজেলার বাসিন্দা মো. শাহ আলমের ছেলে।
অপর শিশুর নাম ইয়াসিন। তার বয়স ১০ মাস। সে হবিগঞ্জ সদর এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রউফের ছেলে। হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এই দুই শিশুসহ সিলেট বিভাগে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ জনে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৬৫ জন, হবিগঞ্জে ২১, মৌলভীবাজারে ১৪ এবং সুনামগঞ্জে ৬৫ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ৪ জনের হাম রোগ নিশ্চিত হয়েছিল।
গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৫৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬৬ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৪, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৩ এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৬ জন ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬৩২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৩ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩৮৫ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দুইজন রুবেলা আক্রান্ত বলেও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক রোগীদের পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।




