হামে আক্রান্ত দুই সন্তানের সেবা করতে অসুস্থ মা, বাড়ি ফিরে মৃত্যু

সংগৃহীত ছবি
হামে আক্রান্ত সন্তানদের সেবা করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন লেংরুং ম্রো (২৬)। গত বুধবার তাকে কবিরাজের কাছে নিতে গেলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
এমন ঘটনা ঘটেছে বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম গয়ালেঙ্গা ইউনিয়নের চিনিপাড়া গ্রামে। তার দুই সন্তান দংওয়াই ম্রো ও কাইনওয়াই ম্রো বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি।
আজ শনিবার বান্দরবান সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল, বিছানায় শুয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে দংওয়াই ম্রো। দুই ভাই-বোন গত শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ছয় নম্বর বেডে একত্রে ছিল।কাইনওয়াই ম্রো সুস্থ হওয়ায় তাদের এক আত্মীয় কাইনওয়াই ম্রোকে শুক্রবার দুপুরে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। তবে শিশুরা এখনো জানে না যে তাদের মা আর নেই।
চাচা ক্রংতং ম্রো জানান, তাদের বাড়ি বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম গ্যালেঙ্গা ইউনিয়নের চিনিপাড়া গ্রামে। দুই সপ্তাহ আগে তাদের মা লেংরুং ম্রো তার বড় সন্তান তাইলেং ম্রোকে (৭) হামে আক্রান্ত হওয়ায় জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চারদিন হাসপাতালে থাকার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। ২৬ জুলাই ভাবি লেংরুং ম্রো সুস্থ অবস্থায় হামে আক্রান্ত দুই সন্তানকে নিয়ে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। সন্তানদের সেবা-যত্ন করছিলেন। কিন্তু ২৮ জুলাই হঠাৎ তিনিও অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
তিনি আরো জানালেন, আমার বড় ভাই ক্রংসং ম্রো (২৮) অক্ষরজ্ঞানহীন। বাংলাও বলতে পারেন না। হাতে টাকাও ছিল না। তিনি শুনেছিলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসা করাতে অনেক টাকা লাগবে। সেই ভয়ে তিনি স্ত্রীকে চট্টগ্রামে না নিয়ে গ্রামের বাড়িতে কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে নিয়ে যান। আর দুই শিশুর দেখাশোনার দায়িত্ব আমার ওপর দিয়ে যান। ২৯ জুলাই বিকেলে গ্রামে পৌঁছানোর পর ভাবির মৃত্যু হয়।
এদিকে স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই শিশুদের বাবা ক্রংসং ম্রোও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে শয্যাশায়ী। ফলে তিন শিশুর দেখাশোনা, চিকিৎসা আর হাসপাতালে দিন-রাত থাকার দায়িত্ব এখন চাচা ক্রংতং ম্রোর কাঁধে।







