‘আর চ্যায়া থাকি লাভ নাই, গ্রামের মায়া ছাড়ি যাবার নাগবে’

তিস্তার ভাঙনে ঘর ভেঙে গ্রাম ছাড়ছে মানুষ
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় নতুন করে তিস্তার ভাঙন শুরু হয়েছে। উপজেলার লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা চল্লিশ সাল চরগ্রামে সপ্তাহখানেক ধরে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি।
ভাঙন বসতভিটায় চলে আসায় অন্তত ১০ পরিবার ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। এতে পুরো চরগ্রামে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, অব্যাহত রয়েছে তিস্তার ভাঙন। বসতঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন বাসিন্দারা। কেউ ঘরের চাল খুলছেন। কেউ আসবাবপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। সবার চোখেমুখে আতঙ্ক। কখন নদী শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নেয়, সেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার সকালে মতিয়ার রহমানের একটি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের আতঙ্কে তিনি তার অন্য ঘরটিও দ্রুত সরিয়ে নিচ্ছিলেন।
তিনি বললেন, ‘আর চ্যায়া থাকি লাভ নাই। এবার গ্রামের মায়া ছাড়ি যাবার নাগবে।’ গত কয়েকদিনে নুর ইসলাম, গোলজার হোসেন, আব্দুল মিয়া, মনিরুল ইসলাম ও বাবু মিয়াসহ অন্তত ১০ পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষার ধকল কাটার পর জেগে ওঠা চরের জমিতে এবার আমন ধানের চারা বেশ ভালো হয়েছিল। সেই ধান ঘিরে কৃষকদের স্বপ্ন ছিল। কিন্তু হঠাৎ ভাঙন শুরু হওয়ায় কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীনের পাশাপাশি শতাধিক কৃষকের উঠতি আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
লক্ষ্মিটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদি বললেন, ‘জয়রামওঝা চল্লিশ সাল চরগ্রামে আকস্মিক তিস্তার ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। ভাঙন আতঙ্কে অনেক পরিবার গ্রামের মায়া ত্যাগ করে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।’
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



