ফেনীতে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু
জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টে দ্বিগুণ রোগী

ছবি: আগামীর সময়
ফেনীতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। প্রতিদিন ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন নতুন রোগী। জুলাই মাসে এ হাসপাতালে ৭৬ জন রোগী চিকিৎসা নিলেও আগস্টে নিয়েছেন দ্বিগুণ। হাসপাতালে ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই— অবস্থা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, ৩০ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ১৪৫ জন। এদের মধ্যে এদের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ৮২, দাগনভূঞায় ১৫, সোনাগাজীতে ১৬, ছাগলনাইয়ায় ১৫, ফুলগাজীতে ১২ ও পরশুরামে পাঁচজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন।
সরেজমিন দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। আজ সোমবার দুপুরে এ হাসপাতালের ডেঙ্গু আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ছিল ৩৫ জন। বেশির ভাগ ওষুধ বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন রোগী।
ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সেবিকা কল্পনা রানী বলেছেন, এ মুহূর্তে হাসপাতালে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। নির্ধারিত শয্যার কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকে। স্বল্প জনবল দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছি আমরা।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল বলেছেন, এ মুহূর্তে পাঁচ শতাধিক রোগী এখানে ভর্তি। কিন্তু এখানে শয্যা রয়েছে ২৫০। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে মেঝেতে রয়েছেন।
তিনি বলেছেন, শয্যা অনুযায়ী ওষুধ বরাদ্দ হয়। তাই শয্যার বাইরে রোগীদের চাইলেও ওষুধ দিতে পারি না। বছরের এ সময়টাতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে জেনারেল হাসপাতাল ও ফেনী পৌরসভার সূত্র মতে, ফেনী শহরের রামপুর এলাকায় ডেঙ্গু রোগী সবচেয়ে বেশি। গত এক মাসে যেসব রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, তাদের মধ্যে কমপক্ষে ২৫ জন রামপুর এলাকায় বসবাস করেন।
রামপুরের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেছেন, বিভিন্ন স্থানে পানি জমে আছে। এসব স্থানে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা জন্ম নিচ্ছে এবং আমাদের আক্রান্ত করছে। তিনি নিয়মিত মশার ওষুধ প্রয়োগ জরুরি বলে মত দিয়েছেন।
এদিকে ফেনী পৌরসভার প্রশাসক মো. দিদারুল আলম বলেছেন, পৌরসভার ১৮ ওয়ার্ডে মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পৌর নাগরিকদের দায়িত্ব রয়েছে আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। কোথাও পানি জমতে না দিলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমে যাবে।








