রাজশাহী
পদ্মার তীরে কবীর-লালনের সুরে মানবতার গান

ছবি: আগামীর সময়
পদ্মার তীরে সন্ধ্যা তখন ধীরে ধীরে গাঢ় হচ্ছে। লালন শাহ মুক্তমঞ্চে জ্বলছে আলো। মঞ্চ থেকে ভেসে আসছে বাঁশির সুর। সেই সুরের সঙ্গে যেন মিশে যাচ্ছে প্রেম, মানবতা আর আত্মিক মুক্তির কথা।
শুক্রবার (০২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজশাহীতে বসেছিল কবীর-লালন ভাবসংগীতের আসর। কবীর ও ফকির লালন শাহের দর্শন, সংগীত ও মানবতাবাদী ভাবধারাকে ঘিরে দেশব্যাপী আয়োজিত উৎসবের পঞ্চম আয়োজন এটি। পদ্মার তীরের এই আয়োজনে জড়ো হন কয়েক শতাধিক দর্শক-শ্রোতা।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের আট বিভাগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ উৎসব।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাঁশি বাজিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন সুফি গবেষক ও উচ্চাঙ্গ বংশীবাদক ড. শাহ্ সৈয়দ হাসিব উল হাসান রাজা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেছেন, কবীর ও লালনের ভাবসংগীত আজও উপমহাদেশের সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। এর কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বজনীন অহিংস মানবতাবাদ ও মুক্তমানবধর্ম।
তিনি বললেন, যুদ্ধ ও হিংসার মাধ্যমে সাময়িকভাবে রাজ্য জয় করা যায়। কিন্তু মানুষের হৃদয় জয় করা যায় না। হিংসাত্মক উগ্রবাদীরা মানবজাতিকে ধ্বংস করার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।
ড. রাজা আরও বললেন, সুরের মহাশক্তির মাধ্যমে বিশ্বকে অশুভ শক্তি থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন কবীর ও লালন। দুজনেই প্রেমের সাধনায় জীবন উৎসর্গ করেছেন। মানুষের আত্মিক মুক্তির পথ খুঁজেছেন।
তার ভাষ্য, কবীর ও লালনের কালজয়ী সত্যবাণীকে সুবিধাবাদীরা নানা কৌশলে মিথ্যার আড়ালে ঢেকে দিতে চাইছে। ইতিহাস একদিন তাদের বর্জন করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
তিনি বলেছেন, লালনের গান বাংলার ঐতিহ্য। এই সংগীত বাংলাকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে। রাজশাহীর সঙ্গে ফকির লালনের সম্পর্কও বহু শতকের পুরনো।
মাহফুজুর রহমান রিটন আরও বললেন, রাজশাহীর খেতুরিতে বৈষ্ণব সাধুদের সঙ্গে সাধুসঙ্গে এসে লালন আরেক গভীর রহস্যের জন্ম দিয়েছিলেন। তার স্মৃতিকে জাগরূক রাখতে রাজশাহী সিটি করপোরেশন পদ্মার তীরে লালন শাহ মুক্তমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেছে।
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল ‘কবীর থেকে লালন : চিরন্তন প্রেমের এক অক্ষয় সেতুবন্ধন’ শীর্ষক সংগীত পরিবেশনা।
কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা পরিবেশন করেন কবীর ও লালনের ২০টি কালাম। একের পর এক গানের মধ্য দিয়ে উঠে আসে প্রেম, মানবতা ও আত্মিক মুক্তির দর্শন।
গান শেষ হলেও যেন থেকে যায় সেই সুরের রেশ। পদ্মার বাতাসে মিলিয়ে যায় কণ্ঠস্বর। কিন্তু কবীর ও লালনের যে মানবতার বার্তা নিয়ে এই আয়োজন, তা ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী ও কবীর-লালন গবেষক আবদেল মাননান।





