এ সেতু কেমন সেতু
হেঁটে ওঠাও দায়
- চরভদ্রাসনে কোটি টাকার সেতুতে চলে না কোনো যানবাহন

সেতু আছে, অথচ পথ নেই পারাপারের। চার বছর ধরে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের চরশালেপুরে দাঁড়িয়ে থাকা কোটি টাকার সেতুটি যেন পথ হারিয়ে একা। ওপারে যাওয়ার স্বপ্ন দেখায়; কিন্তু সেই স্বপ্নে পৌঁছানোর রাস্তা নেই। জনসাধারণের যাতায়াতের সুবিধার জন্য নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোটি কার্যত পড়ে আছে অচল অবস্থায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় থেকেই সংযোগ সড়কের বিষয়টি দেখা হয়নি গুরুত্ব দিয়ে। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয় করে একটি অবকাঠামো তৈরি হলেও সেটি মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের কাজে আসছে না। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি সংযোগ সড়ক নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ।
বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জনপ্রতিনিধিরাও। চরহরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর কবিরের ভাষায়, ‘সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না।’
‘বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে একাধিকবার’— ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন এই জনপ্রতিনিধি।
জনপ্রতিনিধির এমন বক্তব্যের পরও প্রশ্ন থেকে যায়— চার বছর আগে নির্মিত একটি সেতুর সংযোগ সড়ক এখনো কেন হয়নি? এ বিষয়ে চরভদ্রাসনের উপজেলা প্রকৌশলী নাজনীন চৌধুরীর ভাষ্য, তিনি দুই থেকে তিন মাস আগে এই উপজেলায় যোগ দিয়েছেন। সেতু ও সংযোগ সড়কের বিষয়টি তার জানা ছিল না।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য বলছে, ২০২২ সালে চরহরিরামপুর এলাকায় নির্মাণ করা হয় সেতুটি। চরভদ্রাসন উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হলে কাজটি পান চরহরিরামপুর এলাকার ঠিকাদার ফরিদ মোল্লা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি শুধু খোঁজখবর নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাদের দাবি, দ্রুত প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা করে সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ, একটি অবকাঠামো নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য তখনই পূরণ হয়, যখন তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।




