কাঁটাতারের বেড়ায় ৪০ পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ

বগুড়ার আদমদীঘিতে চলাচলের পথে কাঁটাতারের বেড়া
বগুড়ার আদমদীঘিতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি পরিবারের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ৪০টি পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিশেষ করে প্রসূতি নারী, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও জরুরি রোগীদের চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে। এমনকি কোনো বাসিন্দার মৃত্যু হলে মরদেহ বের করে নেওয়ারও ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পথটি উন্মুক্ত করে চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবিতে সর্বশেষ ২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আদমদীঘি সদর ইউনিয়নের তালশন মহল্লায় হাসপাতালের পূর্ব পাশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শ মানুষের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই পথ দিয়ে চলাচল করে আসছেন। গত ২৯ আগস্ট ভোরে আব্দুল হাকিমের ছেলেরা জিআই তারের বেড়া দিয়ে পথটি বন্ধ করে দেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই পরিবারের কয়েকটি গাছ রাস্তার জায়গায় পড়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে মহল্লার লোকজনকে চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে আব্দুল হাকিমের পরিবারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি সার্ভেয়ার এমদাদুল হক জায়গা মাপজোখ করেন। তিনি রাস্তার স্থান নির্ধারণ করে সেখানে থাকা গাছ অপসারণের নির্দেশ দেন। তবে ওই পরিবার গাছ কাটার জন্য সময় চেয়ে পরে নানা অজুহাতে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখে। একপর্যায়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে পুরো পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে রোগী হাসপাতালে নেওয়া কিংবা কোনো বাসিন্দার মৃত্যু হলে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলে অভিযোগ জানিয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি। পরে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অভিযোগটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আশা করছি যত দ্রুত সম্ভব সমস্যাটির সমাধান হবে।’



