কুষ্টিয়া
মামলা তুলে নিতে ‘রাজি’ না হওয়ায় আরেক মামলায় বৃদ্ধাকে গ্রেপ্তার

নূরজাহান বেগম
মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নূরজাহান বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধাকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে কুষ্টিয়ায় সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকোলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি নিজের বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা করার পর থেকেই নূরজাহানকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে অন্য মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১৩ ধারায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানায় দায়ের করা একটি মামলায় নূরজাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে নলকোলা গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
নূরজাহানের পরিবারের দাবি, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাদের বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। পরে নূরজাহান বাদী হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার আদালতে মামলা করেন।
মামলায় স্থানীয় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেন।
নূরজাহানের মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পীর অভিযোগ, মামলা করার পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালীরা তার মাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
তিনি জানান, রবিবার সকালে নূরজাহান রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় ইবি থানা ও পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের একটি যৌথ দল বাড়িতে যায়। তারা জানায়, গুদাম পোড়ানোর মামলার বাদী হওয়ায় ওসি তার সঙ্গে কথা বলবেন। পরে কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।
সেলিনা আক্তারের দাবি, মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় তার মাকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নূরজাহানের ছেলে রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার বৃদ্ধা মা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
ইবি থানার ওসি এসএম মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমি ওই সময় একটি হত্যা মামলার তদন্তে বাইরে ছিলাম। নূরজাহানকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে থানায় গিয়ে খোঁজ নিতে হবে।’
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে জানাতে পারব।



