বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দ্বন্দ্ব, লাইভে এসে অভিযোগ কলেজ শিক্ষকের

সংগৃহীত ছবি
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিদ্যুৎ বিভাগের দায়ের করা মামলায় আত্মগোপনে থাকা এক কলেজ শিক্ষক ফেসবুক লাইভে এসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন হয়রানির। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বকেয়া বিল ও অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণেই তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে আইনী ব্যবস্থা।
রবিবার দুপুরে একটি ফেসবুক লাইভে এসব অভিযোগ করেন উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের চতলবাইদ গ্রামের বাসিন্দা ও বড়চওনা-কুতুবপুর কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক সরোয়ার আলম।
লাইভে সরোয়ার আলম দাবি করেন, সখীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) আবুবকর তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একের পর এক মামলা দিয়ে করছেন হয়রানি। তিনি জানান, তার বাবা শামসুল আলম ও মা মমতাজ আলমের নামে এলাকায় বৈদ্যুতিক মিটার রয়েছে তিনটি।
সরোয়ার আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে তার বাবার নামে দায়ের করা ২ লাখ ৮ হাজার টাকার একটি বিদ্যুৎ বিল-সংক্রান্ত মামলা করা হয়েছিল নিষ্পত্তি। কিন্তু বর্তমানে গ্রামের বাড়ির আরেকটি মিটারকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে নতুন মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর সখীপুর বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা তার বাবার কাছে মুঠোফোনে ঘুষ দাবি করেন ২০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর কিছুদিন পর তাকে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী দেখিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার একটি মামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সরোয়ার আলম বলছিলেন, ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে গত ২ ফেব্রুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে বিল পরিশোধের পর প্রায় ৭০ দিন কারাগারে থেকে তিনি মুক্তি পান। তবে কারাগারে থাকা অবস্থায় তার মায়ের নামে থাকা আরেকটি মিটারের বিপরীতে তাকে ব্যবহারকারী দেখিয়ে করা হয় দ্বিতীয় মামলা। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় বর্তমানে তিনি রয়েছেন আত্মগোপনে।
লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ বিভাগ তাকে হয়রানি করছে পরিকল্পিতভাবে। গ্রেপ্তারের ভয়ে তিনি পরিবারের সঙ্গে ঈদুল আজহার আনন্দ উদযাপন করতে পারেননি এবং নিয়মিত কলেজেও যেতে পারছেন না। তিনি মিথ্যা মামলা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সরোয়ার আলম নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে বড়চওনা-কুতুবপুর কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত থাকলেও এখনো এমপিওভুক্ত না হওয়ায় কোনো বেতন পান না বলে তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী আবুবকর তালুকদার বলেছেন, সরোয়ার আলমের গ্রামের বাড়ি ও নলুয়া বাজারের দুটি মিটারের আওতায় দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলেও বিল পরিশোধ করা হয়নি। পরবর্তীতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরও অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেছেন, একটি মামলার বকেয়া বিল পরিশোধ করায় তিনি কারামুক্ত হয়েছেন। অন্য মামলার বকেয়া বিলও পরিশোধ করলে তার কোনো সমস্যা হবে না।




